লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আবুল কালাম ডাকু (২৪) নামে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোর ৪টার দিকে ভারতীয় ১৬৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ডোরাডাবরী ক্যাম্পের বিএসএফ টহল দলের সদস্যদের গুলিতে আবুল কালাম মারা যান বলে জানিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। তিনি পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়ার মৃত অপির উদ্দিনের ছেলে।

বিজিবি, পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আবুল কালামসহ কয়েকজন সীমান্তের ৮৪৮ নম্বর মেইন পিলারের ৯ নম্বর সাব পিলারের ওপারে গরু আনতে যান। এ কাজে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীরা তাদের সহযোগিতা করেন। এ সময় বিএসএফের ডোরাডাবরী ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে গুরুতর আহত হন আবুল কালাম। পরে সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শাহীনুর রহমান বলেন, ‘নিহত যুবকের বুকের ডান পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। দেখে মনে হয়েছে, বুকে ভেদ করে গুলি বের হয়ে গেছে।’

৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ঝালাংগী ক্যাম্প ইনচার্জ নায়েব সুবেদার নুরুল আমিন বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে আবুল কালাম ডাকু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।’

শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আবুল কালাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সে অবিবাহিত ছিল।’

নিহতের মা মমতা বেগম বলেন, ‘আবুল কালামের বিয়ের কথা চলছিল। কী অপরাধে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করল। আমি এ হত্যার বিচার চাই।’

পাটগ্রাম থানার ওসি মো. আবু সাইদ বলেন, ‘এসআই আবুল কালাম আজাদকে পাটগ্রাম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করবেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় ইউডি মামলা হবে।’