শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে অবশেষে ব্যস্ততম রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও পন্টুন দখলমুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন এ ফেরিঘাট ও পন্টুন অটোরিকশার দখলে ছিল। এতে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামায় বিঘ্ন হতো। গত রোববার (১১ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা ফেরিঘাটে গিয়ে এসব অনিয়ম অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় তারা অতিরিক্ত টাকায় ফেরির টিকিট বিক্রি ও ফেরিঘাটের পন্টুন এলাকা অটোরিকশার দখলে থাকার কারণে ফেরি থেকে যানবাহন ওঠানামায় সমস্যার কথা তুলে ধরেন। খবর পেয়ে উপজেলার দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর একটা টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিক অটোরিকশা উচ্ছেদ করা হয়। দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক সাব ইন্সপেক্টর শিমুল ইসলাম জানান, তারাও দীর্ঘদিন এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এবার ফলপ্রসূ হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে ঘাটে আসার পর আনলোড-লোড দুটি বিষয়ই একসঙ্গে ঘটে। একদিকে ফেরিতে লোড করা যানবাহন নামাতে হয়। অন্যদিকে পারাপারের জন্য অপেক্ষমাণ যানগুলোকে লোড করতে হয়। ঘাট ও পন্টুন এলাকাটি অটোরিকশার দখলে থাকায় এতদিন কাজটি করতে খুবই কঠিন ও সময় লাগত।
ফেরি কর্মচারী বাকি বিল্লাহ বকুল বলেন, ‘ঘাট ও পন্টুনজুড়ে অটোরিকশা অবস্থান করায় ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোডে চরম অসুবিধা হচ্ছিল। সেই সঙ্গে পন্টুনের শৃঙ্খলা রক্ষাও কঠিন হয়ে পড়ছিল। এতে কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতো। ট্রাকচালক রশিদুজ্জামান জানান, ট্রাকে অনেক ভারী পণ্য লোড থাকে। যে কারণে ইচ্ছা করলেই গাড়ির গতি কম-বেশি করার সুযোগ থাকে না। সংযোগ সড়কে গাড়ির গতি কমালে ওই গাড়ি নিয়ে সড়কে উঠতে অনেক বেগ পেতে হয়। অনেক সময় উল্টেও যায়। রাস্তাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশায় একটু ছোঁয়া লাগলেও বাস-ট্রাক চালকদের কাছ থেকে একটি চক্র বড় অংকের জরিমানা আদায় করত।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের সীমিত লোকবল দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করার চেষ্টা করে আসছিলেন। এখন এ সমস্যা দূর হয়েছে। এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বণিক বার্তাকে জানান, ২২ জন আনসার সদস্য ফেরিঘাটে কর্মরত। তারা এটি তদারকি করছেন। তাদের সঙ্গে পুলিশ ছাড়াও বর্তমানে কিছু শিক্ষার্থী কাজ করছেন।










