মিরসরাইয়ে বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কে ১৬টি সেতু, কালভার্ট ও পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত ২৫ মাসে মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বন বিভাগের জায়গায় সড়ক নির্মাণ ও করোনার কারণে কাজের ধীরগতি বলে জানা গেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার অর্থায়নে রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত ১৬টি ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল। এছাড়া ব্রিজের পাশে ২০০-৩০০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। রামগড়ের সোনাইপুল থেকে মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার সড়কে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের এপ্রিলে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ ২৫ মাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ। তাই নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও প্রকল্প ব্যবস্থাপকের দাবি নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হলেও আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে।
প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ। ধুলাবালির পাশাপাশি রামগড়ের সোনাইপুল, ফটিকছড়ির হেঁয়াকো বাজার, মিরসরাই অংশের করেরহাট লক্ষ্মীছড়া, হিঙ্গুলী ও কয়লা এলাকায় যানজট লেগেই থাকে।
মিরসরাই অংশের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে করেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা। করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও কয়লা এলাকার বাসিন্দা মহি উদ্দিন মেম্বার জানান, কয়লা বাজারে তার একটি অফিস রয়েছে। এলাকা মানুষ কোনো সমস্যায় পড়লে ওই অফিসে বসে সমাধান করে। কিন্তু ব্রিজ ও সড়কের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ধুলাবালির কারণে অফিসে বসতে পারছে না।
করেরহাট বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হোসেন জানান, ধুলাবালি ও যানজটে জনজীবন বিপর্যস্ত। বাজারের ব্যবসায়ী ধুলাবালির কারণে রীতিমতো হাঁফিয়ে উঠেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএলের সাইট ম্যানেজার হাবীবুর রহমানের দাবি, করোনার কারণে কাজে ধীরগতি এসেছে। শ্রমিকরা ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পর কভিড-১৯-এর কারণে কাজে আসছে না। তাই নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধিকরণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, রামগড় স্থলবন্দর হয়ে ভারত থেকে সড়কপথে পণ্য রফতানি-আমদানির জন্য এ সড়ক ব্যবহার হবে। যদিও বারইয়ারহাট-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণে ৮৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গত বছরের আগস্টে একনেকের সভায় এ অর্থের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকার দেবে ২৬৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং ভারত সরকার ঋণ দেবে ৫৮১ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে এখনো সড়ক প্রশস্তকরণের দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। কিন্তু দুই দেশকে সংযুক্ত করার জন্য ফেনী নদীর ভারত অংশের ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণকাজ শেষ করেছে দেশটি।
এদিকে ১৬টি সেতু ও কালভার্টের পাশের অধিকাংশ অ্যাপ্রোচ সড়ক বন বিভাগের জায়গায় হওয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। এরই মধ্যে বন বিভাগের জায়গার বিষয়ে একটি সুপারিশ চট্টগ্রাম বন কর্মকর্তার মাধ্যমে বন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক জুলফিকার আহম্মদ।
তিনি জানান, রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত ১৬টি সেতু ও কালভার্টের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু অধিকাংশ অ্যাপ্রোচ সড়ক বন বিভাগের জায়গায় হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ না হলেও আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে।










