ভরা মৌসুমেও বরিশালের নদনদীতে দেখা মিলছে না ইলিশের। তীব্র গরম ও পানি কম থাকায় সাগর থেকে নদনদীতে ইলিশ আসছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সাধারণত বছরের এ সময়ে মৎস্য আড়তগুলোয় ইলিশে সয়লাব থাকার কথা থাকলেও সেখানে ভিন্ন চিত্র। নদনদীর পরিবর্তে সাগর মোহনা থেকে কিছু ইলিশ আসছে, যা বরিশালের বাজারে না গিয়ে চলে যাচ্ছে পাইকারের হাতে। দেশী বিভিন্ন প্রজাতির মাছে ভরপুর বরিশালের পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম।
এদিকে সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। সাগরে মাছ শিকার শুরু হলেই এখানে পর্যাপ্ত ইলিশ আশার কথা বলছেন বরিশাল জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস।
মৎস্য আড়তদারদের দাবি, মৌসুমের এ সময়ে ইলিশে সয়লাব থাকার কথা দক্ষিণের সবচেয়ে বড় ইলিশ মোকাম পোর্ট রোড মৎস্য আড়ত। কিন্তু সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা এবং বৃষ্টি না থাকায় নদনদীতে ইলিশশূন্যতা দেখা দিয়েছে বলে জানা যায় ।
মৎস্য আড়তদার ইলিয়াছ হোসেন জানান, অভ্যন্তরীণ নদনদীতে এ মুহূর্তে ইলিশ শিকারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই এ সময়ে প্রতিদিন হাজার মণের ওপর ইলিশ আসার কথা ছিল মোকামে। কিন্তু আসছে না। স্থানীয় নদনদীর কিছু ইলিশ মোকামে এলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম চড়া। আজ মধ্যরাতে সাগরে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই জেলেরা শিকারে যাবেন। আর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইলিশ আশা শুরু করবে বলে দাবি তার।
আড়তদার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, অভ্যন্তরীণ নদনদী এবং সাগরে সারা বছরই কম-বেশি ইলিশ পাওয়া যায়। কিন্তু জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত চার মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। মৌসুম শুরুর আগে আগে প্রতি বছর এ সময়ে শত শত মণ ইলিশে সয়লাব থাকত বরিশালের ইলিশ মোকাম। গভীর সমুদ্র এবং অভ্যন্তরীণ নদীতে শিকার করা ইলিশ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটত পাইকার, আড়তদারসহ শ্রমিকদের। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। পানি কম থাকায় অভ্যন্তরীণ নদীতেও মাছ আসছে না। এ কারণে অনেকটা ইলিশশূন্য বরিশালের মোকাম।
গতকাল অভ্যন্তরীণ নদী এবং সাগর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়া মাত্র ১১ মণ ইলিশ দুটি ট্রলারে ভোলার চরমোন্তাজ থেকে আসে বরিশাল মোকামে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দামও ছিল বেশ চড়া। গতকাল বরিশালের মোকামে ৬৫০-৯০০ গ্রাম (এলসি) সাইজ প্রতি মণ ইলিশ ৪৮ হাজার টাকা, ১ কেজি সাইজের প্রতি মণ ৬০ হাজার, ১ কেজি ৪০০ গ্রাম সাইজ প্রতি মণ ৮০ হাজার এবং দেড় কেজি সাইজের প্রতি মণ ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৯০-৯২ হাজার টাকায়।
ইলিশক্রেতা মাহিমুল হাসান এমদাদ বলেন, এখন ইলিশের যে দাম থাকা উচিত ছিল তার চেয়ে দাম অনেক বেশি। এ মুহূর্তে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। চড়া দাম হওয়ায় মানুষ ইলিশের স্বাদ ভুলে যেতে বসেছে। এত দাম দিয়ে সাধারণ জনগণের পক্ষে ইলিশ কিনে খাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান ক্রেতারা।
বরিশাল জেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিপন বলেন, শনিবার সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া ট্রলারগুলো ফিরে এলে ইলিশের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দামও কমবে। আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র—এ তিন মাস ইলিশের প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে তিনি জানান।
বরিশাল জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এমনিতেই তীব্র গরম, তার ওপর নদীতেও পানি কম। এ কারণে সাগরের মাছ নদীতে আসছে না। তাই জেলেদের জালে ইলিশও ধরা পড়ছে না। তবে আজ মধ্যরাত থেকে সাগরে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে অভ্যন্তরীণ নদনদীতেও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে দাবি তার। তখন জেলে, আড়তদার ও শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটবে বলে তিনি আশা করেন।










