তুলনামূলক কম পরিশ্রম ও খরচে ভালো লাভ হওয়ায় সিরাজগঞ্জে বাড়ছে বিনা চাষে রসুন আবাদ। এবার চলনবিলের পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে এ চাষ শুরু করেছেন জেলার কৃষকরা। জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সিরাজগঞ্জে মোট রসুন আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩০ হেক্টরে। এর মধ্যে বিনা চাষে আবাদ হবে ৩৫২ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের চেয়ে ৩০ হেক্টর বেশি। এ থেকে মোট রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৫৭৫ টন।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সপ্তাহ আগেই আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত এ অঞ্চলে এখন চলছে রসুন রোপণের কার্যক্রম। সাধারণত অগ্রহায়ণের শুরুতে বিলের পলিমাটি শুকিয়ে গেলে জমিতে হাল না দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র আরো জানায়, বিল থেকে পানি নেমে গেলে কাদা মাটিতে বিনা চাষে জমিতে সারিবদ্ধভাবে রসুনের কোয়া রোপণ করা হয়। এরপর জমিতে বিছিয়ে দেয়া হয় খড়। এর আগে প্রতি বিঘা জমিতে ২৫-৩০ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি পটাশ, ২০ কেজি জিপসাম ও দুই কেজি বোরন সার প্রয়োগ করা হয়। রোপণের ২৫-৩০ দিন পর বিঘাপ্রতি ১৫-২০ কেজি ইউরিয়া সার দিয়ে পানি সেচ দেয়া হয়। এর ৫০ দিন পর আবারো দ্বিতীয় দফায় প্রয়োগ করা হয় ১২-১৫ কেজি ইউরিয়া। তাপর ফাল্গুনের মাঝামাঝি থেকে পুরো চৈত্রে চলে রসুন উত্তোলনের কাজ। রসুন মাঠ থেকে তুলে এনে কড়া রোদে শুকানো হয়। তারপর গোছা করে রসুন সংরক্ষণ করেন কৃষকরা।
এখন জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে রসুন রোপণের ভরা মৌসুম। বড়দের সঙ্গে ছোটরাও জমিতে লাইন ধরে রসুনের কোয়া রোপণ করছে। তাড়াশের সগুনা ইউনিয়নের বিন্নাবাড়ি গ্রামের ইমান আলী বলেন, আমন ধান কাটার পর প্রতি বছরের মতো এবারো সাত বিঘা জমিতে রসুন রোপণ করেছি। এর মধ্যে বিনা চাষে রেপণ করেছি তিন বিঘায়। বিনা চাষে রসুন চাষে পরিশ্রম কম। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে ফলনও ভালো হয়। ফলে এ এলাকায় দিন দিন বিনা চাষে রসুন আবাদ বাড়ছে।
তাড়াশের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুত্ফুন্নাহার লুনা বলেন, চলনবিল এলাকায় বর্ষার পানি নামার পর পরই কৃষক বিনা চাষে রসুন রোপণ করেন। চলনবিল অধ্যুষিত এ উপজেলায় বিনা চাষে রসুন আবাদের পরিমাণ বাড়ছেই।










