পৌষের শেষ ভাগে সারা দেশেই বেড়েছে শীতের প্রকোপ। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয়; ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দেশের ৪৪ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি সারা দেশে কুয়াশার আধিক্য থাকবে বলেও আভাস দিয়েছে সংস্থটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৩২ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে। পাশাপাশি টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লার ওপর দিয়েও শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাপকাঠি অনুযায়ী, যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
দিন যতই যাচ্ছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁয় বাড়ছে শীতের তীব্রতা। তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে ৬-১১ ডিগ্রির ঘরে। গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন।
এদিকে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে চারপাশ। উত্তরের হিমেল বাতাস শীতকে বাড়িয়ে তুলেছে কয়েক গুণ। দিনে ঠিকমতো দেখা মিলছে না সূর্যের। ছোট থেকে মাঝারি যানবাহনগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
শহরের বরুণকান্দি এলাকার রিকশাচালক দবিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুদিন ধরে অনেক বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতের কারণে বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। আগের মতো ভাড়াও হচ্ছে না। শীতে কষ্ট হলেও দুমুঠো খাবারের জন্য গাড়ি চালাতে হচ্ছে।’
বাংলাদেশে মহাদেশীয় বায়ুপ্রবাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত জেলা চুয়াডাঙ্গায়ও তাপমাত্রা নিম্নমুখী। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে জেলার ওপর দিয়ে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকছে। কুয়াশা না থাকলেও রয়েছে শীতের তীব্রতা।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এ মৌসুমে এটা চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
২৫ ডিসেম্বর থেকে হিমেল হওয়ার সঙ্গে কুয়াশায় গোপালগঞ্জেও তীব্র শীত অনুভূত হয়ে আসছে। ৩১ ডিসেম্বর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও গতকাল আবারো ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। আরো কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘গতকাল ভোরে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এ ধরনের আবহাওয়া কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।’
রংপুর বিভাগজুড়েও মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে রংপুরে সূর্যের দেখা মেলায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যদিও রোদের তীব্রতা তেমন ছিল না।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গতকাল সকাল ৬টায় ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ দশমিক ৫ ও নীলফামারীতে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ তিন জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া একই সময়ে কুড়িগ্রামে ৮ দশমিক ৫, রংপুরে ৮ দশমিক ৬, দিনাজপুরে ৮ দশমিক ৭, গাইবান্ধায় ৯ দশমিক ২ ও লালমনিরহাটে ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘রংপুর বিভাগে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
দিনাজপুরের হিলিতে কয়েক দিন ধরেই শীত অব্যাহত রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে হচ্ছে। দুদিন পর গতকাল সূর্যের দেখা মিললেও তীব্রতা ছিল কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর দিনাজপুরের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতকাল সকাল ৯টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৪ জানুয়ারি থেকে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।










