সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি ‘বাংলা ব্লকেডে’র কারণে গতকাল স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী শহর। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবারও শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচি চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে শহরজুড়ে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার (৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মূল ব্লকেড আন্দোলন শুরু করা হবে। একই সময়ে সারাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এ বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করবে শিক্ষার্থীরা। আর ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিও অনির্দিষ্টকাল বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা করা হয়। 

গতকাল শাহবাগ মোড়ের অবরোধ তুলে নেয়ার আগে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। আন্দোলনে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল সন্ধ্যায় এই তিন নেতাসহ আরেক নেতা আসিফ মাহমুদকে পুলিশ ডেকে নিয়ে কথা বলে। ফিরে এসে তারা সাংবাদিকদের বলেন, তারা কোনো আপসে যাবেন না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সব ধরনের বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।’

গতকাল আন্দোলনকারীরা ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের প্রধান মহাসড়ক অবরোধ করে। ঢাকার সায়েন্সল্যাব, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, বকশীবাজার, শাহবাগ, পরিবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান বলেন, ‘‌আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের যে কর্মসূচি, সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষণা করা হলো। আমাদের যে ব্লকেড কর্মসূচি সেটি মঙ্গলবারও বহাল থাকবে। মঙ্গলবার আমরা ফার্মগেট পৌঁছে যাব।’ তিনি আজ বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দেন।