গতকাল স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে পাঠানো এক বার্তায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ ‘ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু ও ভালো অংশীদার’। দুই দেশ পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। তিনি দুদেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানো, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব এগিয়ে নেয়া ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এদিকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই তার বাংলাদেশী সমকক্ষ খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে যুক্তরাষ্ট্র মূল্যায়ন করে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিনও এক বার্তায় স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের জনগণকে একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সূচনা করেছিল।’
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে খোজিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে “গ্লোবাল সাউথের” একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ বর্তমানে রাশিয়া যৌথ প্রকল্প ও দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহী জানিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেয়ার আশা প্রকাশ করেন আলেকজান্ডার জি খোজিন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পৃথক বার্তা পাঠিয়ে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আপনাদের জাতীয় দিবসের এ আনন্দময় মুহূর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সে চিরস্থায়ী অংশীদারত্বের কথা স্মরণ করছি।’
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতের কথা উল্লেখ করে রাজা আরো বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। আমাদের দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে শক্তিশালী ও চিরস্থায়ী করছেন। কমনওয়েলথের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য এবং এর তরুণ প্রজন্মের উদ্যম আশা ও অগ্রগতির অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।’
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক দিনটি স্বাধীনতা ও ভবিষ্যতের আশার প্রতীক, যা দেশটির অব্যাহত উন্নতির পথে সব নাগরিককে অনুপ্রাণিত করবে।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে। এতে বলা হয়, দুদেশের মধ্যকার সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আগামীতে আরো সুদৃঢ় হবে বলে পাকিস্তান আশাবাদী।










