কম-বেশি এক মাস আগে থেকেই শিডিউল বিপর্যয় সমস্যায় ভুগছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ঈদে বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলাতে সতর্ক ছিল সংস্থাটি। তার পরও শেষ রক্ষা করা যায়নি। উল্টো ঈদযাত্রার প্রথম দিনে গতকাল রেলের শিডিউল বিপর্যয় আরো বেড়েছে। ঢাকা (কমলাপুর) ছেড়ে যাওয়া বেশির ভাগ ট্রেন রওনা হয়েছে নির্ধারিত সময়ের পর। কোনো ট্রেন স্টেশন ছাড়তে দেরি করেছে, কোনোটি পথ চলতে গিয়ে বিলম্ব করেছে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে রেলপথে যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে ঘরমুখী মানুষ। অন্যদিকে এবার আগেভাগেই উত্তরাঞ্চলের ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে দেখা দিতে শুরু করেছে যানজট। ফলে সড়কপথেও ভোগান্তি নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে ঘরমুখী মানুষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদে বাড়তি যাত্রীর চাপ সামাল দেয়ার জন্য এবার আগে থেকেই বিভিন্ন ট্রেনের জন্য ইঞ্জিন প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। তবে গতকাল সকালে বিপত্তি বাধায় ঢাকা-সিলেটের মধ্যে চলাচল করা পারাবত এক্সপ্রেস। ট্রেনটি কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু পয়েন্ট কানেকশন ও শান্টিংয়ের ভুলের কারণে পারাবত এক্সপ্রেসওয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে দিনের অন্য ট্রেনগুলোয়ও।
ঢাকা-রংপুরের মধ্যে চলাচল করা আন্তঃনগর ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিট। যদিও ট্রেনটি কমলাপুর থেকে ছেড়ে যায় ৯টা ৫৫ মিনিটে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ ট্রেনটি অবস্থান ছিল নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে। সে সময় রংপুর এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট বিলম্বে চলাচল করছিল।
একই সময়ে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট বিলম্বে চলাচল করছিল ঢাকা থেকে পঞ্চগড় অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস। ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলছিল ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট অতিরিক্ত সময় নিয়ে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলছিল ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিট বিলম্বে। নির্ধারিত শিডিউল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করেছে ঢাকা-চট্টগ্রামের চলাচল করা কর্ণফুলী মেইল। আর ঢাকা রাজশাহী রুটের সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৩০ মিনিটের বেশি বিলম্ব নিয়ে চলাচল করেছে।
অন্য ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-নোয়াখালীর মধ্যে চলাচল করা উপকূল এক্সপ্রেস ৫০ মিনিট, ঢাকা-তারাকান্দির মধ্যে চলাচল করা অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা, ঢাকা-কিশোরগঞ্জের মধ্যে চলাচল করা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট, ঢাকা-মোহনগঞ্জের মধ্যে চলাচল করা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, ঢাকা-জামালপুরের মধ্যে চলাচল করা জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট বিলম্বে চলাচল করেছে গতকাল।
শিডিউল বিপর্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদুল আজহার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল রেলওয়ে। কোনো ট্রেন যেন বিলম্বে ছেড়ে না যায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সতর্ক ছিল। কিন্তু ঢাকা স্টেশনে একটি ট্রেনের শান্টিংয়ের সামান্য ভুলের কারণে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে ছেড়েছে।’
এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তরাঞ্চলের ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর ও টাঙ্গাইল-নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহন চলাচল। এর প্রভাবে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকেই যানজট দেখা দিতে শুরু করে। গতকাল সকাল ৬টার দিকে যানজট ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।
যানজটের কারণ সম্পর্কে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর মো. সাজেদুর রহমান জানান, ‘অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে ধীরে ধীরে যানজট কমছে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কে চার লেনের কাজ চলছে। রাতে ট্রাকে করে ঢালাইয়ের সামগ্রী সড়কে নামানো হচ্ছে। এটাও যানজটের অন্যতম কারণ।’
টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের সংযোগকারী বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে সাধারণত দিনে ২০-২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। গত ১১ জুন পারাপার হওয়া যানবাহনের সংখ্যা ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, এ সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহনের সংখ্যা তত বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সকাল ১০টার পর থেকে যানজট কিছুটা কমলেও বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানবাহন চলাচলের খবর পাওয়া গেছে। যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ে সড়কপথে যাতায়াত করা মানুষ।










