আহত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হয় থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। কিন্তু চিকিৎসা সেবাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় ৬ দফা দাবিতে অনশনে বসেন তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে মেডিকেল সেন্টার থেকেই ফেসবুকে এ অনশনের ঘোষণা দেন ওই শিক্ষার্থী। 

দাবির বিষয়ে মহিউদ্দিন রনি বণিক বার্তাকে জানান, মেডিকেল সেন্টারের এন্ট্রি পয়েন্টে ইনফরমেশন ডেস্ক স্থাপন করতে হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক লিফট, র‍্যাম্প, হুইল চেয়ার ও অন্যান্য সরঞ্জাম দিতে হবে। ছাত্রীদের অন্তর্বর্তীকালীন শারীরিক সমস্যার সব চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় টিকা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট বা মেশিন স্থাপন করতে হবে। মেডিকেল সেন্টারে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার প্রদান ও ক্যান্টিন স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। হাইকমোড তথা হাইলি ডেকোরেটেড স্যানিটেশন সিস্টেমে টয়লেট, বাথরুম তৈরি করতে হবে।

প্রসঙ্গত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাম পা এবং কোমরে আঘাত পেয়ে গেল ৫ এপ্রিল থেকে এ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন রনি। যথাযথ  চিকিৎসা ও সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে সেখানকার ভোগান্তি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে ২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা ফেসবুকে পোস্ট করেন। ভিডিও বার্তা দেখে তার হলের প্রভোস্ট, পরিবারের সদস্য এবং হলের বন্ধু-বান্ধবরা রনিকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিতে চাইলে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তিনি মেডিকেল সেন্টারেই অনশনের সিদ্ধান্ত নেন। পরে রোববার দুপুরে রনির ৬ দফা দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ রাহাত। 

তার এই অনশনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, কেউ একজন অনশন ঘোষণা করলেই তো হয়ে গেলো না। সবকিছুরই একটা প্রক্রিয়া আছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীর সুস্থ হবার জন্য তো চিকিৎসা নেয়া দরকার, সেখানে অনশনতো কোনো সমাধান হতে পারে না। তার চিকিৎসার সব ব্যবস্থার জন্য বলা হয়েছে। তার কাছে আমাদের দুটো পরামর্শ থাকবে সে যেন সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করে এবং তার যদি কোনো পরামর্শ থাকে তাহলে আমাদের যেন লিখিত আকারে দেয়।