নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের কারাখানার আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন ষষ্ঠতলায় আগুন ডাম্পিংয়ের কাজ করছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় আগুন জ্বলার কারণে ভবনের পঞ্চম তলার ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে পুরো ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাই তাদের অনেক সাবধানতা অবলম্বন করে কাজ করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভির কর্মীরা টানা চেষ্টা চালিয়ে এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী বলেন, ‘ছয়তলা ভবনে মালামাল রক্ষিত ছিল। যে কারণে পুরো ছয়তলাটি ধংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) ও তদন্ত কমিটির প্রধান লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সেজান জুস কারখানার ভেতরে মেশিন ও কেমিক্যাল একসঙ্গে রাখার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কারণ কারখানার প্রতিটি ফ্লোরে কেমিক্যাল স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের এ কারণেই আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে।
জিল্লুর রহমান আরও বলেন, ‘বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে। ছয়তলায় গোডাউনের মতো ছিল। সেখানে আমরা তল্লাশি চালিয়েছি। কিন্তু কোনও লাশ পাইনি। আমাদের কাজ চলছে। আজ বিকাল ৬টায় কাজ শেষে করে পুরো ভবনটি আরেকবার তল্লাশি করে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত হবে।’
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম জানান, আগুন লাগার কারন অনুসন্ধানে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছেন। আগুনের সুত্র থেকে শুরু করে কি কারনে আগুন এমন ভয়াবহ হলো, কেন এতো শ্রমিকের প্রানহানি ঘটেছে, কেনই আগুন লাগার পর শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হতে পারেনি। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা,নাকি নাশকতা। কারখানা নির্মানে ত্রুটি ছিলো কিনা, মালিক পক্ষের গাফিলতি কতটুকু সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। দোষিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে একাধিক মামলা রজু করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,গত বৃহস্পতিবার বিকালে সাড়ে ৫টায় রূপগঞ্জের কর্ণগোপ হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় আগুন লাগে। অগুনে ভবন থেকে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া প্রথম দিন ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়। মোট মারা যান ৫২ জন। ভবনে কেমিক্যাল ও তৈরি পণ্য একসঙ্গে থাকার কারণে আগুন ভয়াবহ হয়েছে।










