বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য পাবনার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ফলে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক সনদ নেয়ার আগ্রহ বেড়েছে। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয়ায় পাবনার ঝুট ও ক্ষুদ্র হোসিয়ারি ব্যবসার দ্রুত প্রসার ঘটেছে। ফলে একদিকে ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও বেড়েছে। 

প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন পাবনার হোসিয়ারি ও তৈরি পোশাকের ব্যবসা এখন আগের চেয়ে বিস্তার লাভ করছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এ ব্যবসা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এতদিন নিজেদের ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেননি। ফলে দেশী-বিদেশী ক্রেতারা এসব ব্যবসায়ীর সন্ধান পাননি। ফলে ব্যবসায়ীরা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা করতে পারতেন না। বিষয়টি উপলব্ধি করে জেলার উন্নয়ন সংস্থা ওসাকা  বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ও  পিকেএসএফের সহযোগিতায় সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি) নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

সরেজমিন পাবনার হোসিয়ারি শিল্প এলাকা ঝুটপট্টি, সাধুপাড়া, বাংলাবাজার, দ্বীপচরে দেখা গিয়েছে শত শত কারখানায় উদ্যোক্তা ও কারিগররা কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। এমএস ফ্যাশনের কর্ণধার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন বছর ধরে হোসিয়ারি ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে ওসাকা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ যে শুধু ব্যবসায়িক উন্নয়নেই কাজে লাগানো হচ্ছে তা নয়, বরং নিজেদের কারখানাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ভূমিকা রাখছে। ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করায় সরকারের কোষাগারও সমৃদ্ধ হচ্ছে।

শরিফুলের মতো প্রজন্ম হোসিয়ারির স্বত্বাধিকারী মিলন বলেন, দীর্ঘদিন ব্যবসা করলেও ট্রেড লাইসেন্সের গুরুত্ব বুঝতে পারিনি। ওসাকার প্রশিক্ষণের পর লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে পৌরসভা থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছি।

ঝুট ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি শীত মৌসুমে পাবনার তৈরি হোসিয়ারি পণ্য ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক উন্নয়ন ছাড়াও সরকারের আয়ের জোগান দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে পাবনা পৌরসভার সাবেক ট্রেড লাইসেন্স ইন্সপেক্টর রইজ উদ্দিন বলেন, ওসাকা হোসিয়ারি ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ব্যবসায়িক সনদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর থেকে হোসিয়ারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স করার ব্যাপারে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। আগের চেয়ে ব্যবসায়ীরা বর্তমানে অনেক বেশি পরিমাণে ট্রেড লাইসেন্স পৌরসভা থেকে গ্রহণ করছেন। ফলে পৌরসভার আয়ও বেড়েছে কয়েক গুণ।

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি, হেমায়েতপুর, মালঞ্চি ও ভাড়ারা ইউনিয়নের বেশির ভাগ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেছে।

দোগাছী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলী হাসান জানান, ট্রেড লাইসেন্স করার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের আয় যেমন বেড়েছে তেমন ব্যবসায়ীরাও বৈধভাবে ব্যবসা করছেন। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।  

স্থানীয় সরকার পাবনার উপ-পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রসার ঘটাতে সহযোগিতা করবে।