বর্ষা মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বেশির ভাগ জমিই থাকে জলাবদ্ধ। এসব জমিতে বছরে একবার ধান চাষ হলেও বাকি সময় পরিত্যক্ত থাকে। এ সময়টাতে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। তবে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আবারো চাষে ফিরছেন কৃষক। জলাবদ্ধ জমিতে মাচায় ১২ মাসই সবজি উৎপাদন করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাচায় সবজি চাষ। এতে কৃষকও লাভবান হচ্ছেন। একবার বিনিয়োগ করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত চাষাবাদ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, নবীনগরে মোট আবাদি জমি রয়েছে ২৮ হাজার ৫৭৯ হেক্টর। তবে এর মধ্যে ৬ শতাংশ জমি বর্ষা মৌসুমে চাষযোগ্য থাকে। মোট আবাদি জমির ৯ হাজার ৭৬৮ হেক্টরই পড়েছে হাওর অঞ্চলে। ১২ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে দুই ফসল আবাদ হয়। আর ১ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে একটি ফসল আবাদ হয়। ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি বাড়ির আশপাশে থাকায় সারা বছর সবজি চাষ করা যায়। আবাদি জমিগুলো সাধারণত চার-ছয় মাস পর্যন্ত পানির নিচে থাকে।
কৃষকরা বলছেন, এককালীন ধান চাষ ছাড়া এখানে অন্য ফসল ফলানোর আগ্রহ কম থাকায় বেশির ভাগ জমিই থাকে পরিত্যক্ত। অনেকে দুই ফসলি জমিতে একবার ধান ও একবার সবজি চাষ করে। তবে স্থানীয় বাজারগুলোয়ও চাহিদামতো জোগান দিতে পারে না। এতে বছরের বেশির ভাগ সময় কৃষকরা বেকার হয়ে পড়েন। অনেকে বেছে নেন অন্য পেশা।
পৌর এলাকার আলীয়াবাদ বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, আগে মৌসুমি ফল বিক্রি করতে না পারলে পচে যেত। সবজি আনতে হতো ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে ট্রাকে করে। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হতো। তবে পচে গেলে লোকসান গুনতে হতো। এখন সারা বছর টাটকা সবজি পাওয়া যায়। বাজারে এনে বিক্রি করতেও পরিবহনে খরচ কম লাগছে। তাই কম দামে সবজি বিক্রি করতে পারছেন।
কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘আগে শুধু ধান চাষ করতাম। এখন পানিতে ডুবে থাকা জমিতে মাচা করে লাউ-কুমড়া ও লতা জাতীয় সবজি আবাদ করছি। একবার মাচা করতে পারলে আর খরচ হয় না। তবে বাঁশের মাচা না করে নেট ও প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে করতে পারলে টেকসই হয়। বর্ষা শেষ হলে মাচা উঠিয়ে রেখে দিয়ে ধান চাষ করা যায়। সারা বছরই আমরা চাষাবাদ করতে পারছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘আমাদের দেশ নদীমাতৃক। এখানে মাচায় চাষাবাদ বেশ উপযোগী একটি পদ্ধতি। কোনো কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ সারা বছর ফসল ফলাতে পারবেন।’










