প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সারা দেশে শিশুদের হামের টিকা না দেয়া বিগত দুই সরকারের জীবনবিনাশী ব্যর্থতা, যা ক্ষমাহীন অপরাধ। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, ভবিষ্যতে আর কখনোই যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে 'হামে'র টিকা দিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ায় পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আমি সব চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। যারা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন সেই সব পিতামাতা এবং স্বজনদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বর্তমান সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে আগে আমরা জনগণের কাছে স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছিলাম। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, 'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর' বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা যদি রোগের শুরুতেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে রোগের বিস্তার মোকাবেলা সম্ভব। আমাদের এ নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বিশেষায়িত হাসপাতাল অথবা উন্নত ল্যাব- প্রায় সবকিছুই শহরকেন্দ্রিক কিংবা আরো সুনির্দিষ্ট করতে বলতে গেলে সবকিছুই রাজধানীকেন্দ্রিক। এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে যদি আমরা জেলা উপজেলাভিত্তিক হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যেমন জেলা উপজেলায় চিকিৎসা সেবা দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবেন, অপরদিকে রোগীদেরকেও শারীরিক এবং আর্থিকভাবে আরো কষ্ট করে ঢাকামুখী হতে হবে না। শহর এবং গ্রামাঞ্চলের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে যেকোনো নাগরিক প্রয়োজনে দেশের যেকোনো হাসপাতালে সহজেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যাতে কোনো নাগরিক চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। আমাদের লক্ষ্য, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও উন্নত করা, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা, এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করা।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং জীবন ম্যান উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কেও সরকার ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারেও সরকার সাধ্যমতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধ পরিকর। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, সেটি হলো প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবেন। একটি সুস্থ জাতি গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আপনারাই মূল কারিগর । আমরা সবাই মিলে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যা হবে সবার জন্য সহজলভ্য, কার্যকর এবং মানবিক।