চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ বিদ্যুতের খুঁটি অরক্ষিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহকৃত এসব খুঁটি হেলে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খুঁটি হেলে পড়েছে। আবার কোনো কোনো স্থানে খুঁটি হেলে আছে আবাসিক ভবনের ওপর। কিছু স্থানে বিপজ্জনকভাবেই ঝুলে আছে বিদ্যুতের তার। এলোমেলোভাবে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার নিয়ে উদ্বিগ্ন‌‌ শহরবাসীও।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কালীবাড়ি মোড়, হকার্স মার্কেট রোডসহ বিভিন্ন অলিগলিতে দেখা গেছে, একাধিক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে। কোথাও কোথাও খুঁটি মার্কেট ও ভবনঘেঁষে রয়েছে, যা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। এছাড়া বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগের তার ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। অনেক জায়গায় তারগুলো সড়কের ওপর নিচু হয়ে ঝুলছে, আবার কোথাও খুঁটি থেকে খুলে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এতে ভারী যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি পথচারীরাও আতঙ্কে থাকছে।

চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী জসিম মেহেদী জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের এমন অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক। খুঁটিগুলো পুরনো হওয়ায় এবং অনেক তারের কারণে হেলে পড়েছে। সড়কে চলাচলকারী পথচারীরা অনেক সময় নিচে পড়ে থাকা তারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

পথচারীরা বলছেন, পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক খুঁটি ও এলোমেলো তারের কারণে শুধু দুর্ঘটনার আশঙ্কাই বাড়ছে না, একই সঙ্গে শহরের সৌন্দর্যও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমরা দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি অপসারণ, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন খুঁটি স্থাপন এবং ঝুলন্ত ও ছড়িয়ে থাকা তারগুলো গুছিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তবে এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ভূইয়া বলেন, ‘এ প্রসঙ্গে এখন কোনো কথা বলতে পারব না। আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত আছি।’