জয়পুরহাটের কালাই ও আক্কেলপুর উপজেলায় সার সংকট দেখা দিয়েছে। বিসিআইসির অনুমোদিত সাব-ডিলার ও খুচরা দোকানগুলোয় কৃষক তাদের চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। ফলে ভরা আমন মৌসুমে চরম বেকায়দায় পড়ছেন কৃষক। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ৫-১০ কেজি করে ইউরিয়া সার পেলেও ডিলাররা দাম নিচ্ছেন বেশি, দিচ্ছেন না রসিদ।

এদিকে খুচরা সার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলাররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী সার দিচ্ছেন না। আবার দামও বেশি নিচ্ছেন। তাই সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে সার। এছাড়া প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে অনেক ডিলার দোকানে সার বিক্রি বন্ধ করে রেখেছেন। ডিলারদের দাবি, চলতি মাসে সরকারিভাবেই সারের বরাদ্দ কম পেয়েছেন। তাই তারা চাহিদা মোতাবেক সার দিতে পারছেন না।

কালাই ও আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ দুই উপজেলায় চলতি মাসে ১ হাজার ১৯০ টন ইউরিয়া, ২০৩ টন টিএসপি, ২৮৩ টন এমওপি ও ৩৭৫ টন ডিএপি সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১১৭ টন ইউরিয়া, ১৮১ দশমিক ৯০ টন টিএসপি, ২৬৭ দশমিক ৩৫ টন এমওপি ও ২২৮ টন ডিএপি সার ডিলাররা উত্তোলন করেছেন।

এ দুই উপজেলার এখন পর্যন্ত বিসিআইসির ডিলার পর্যায়ে ১৪০ টন ইউরিয়া, ১০৯ দশমিক ৩০ টন টিএসপি ২৫ দশমিক ৯ টন এমওপি ১৪০ দশমিক ৫ টন ডিএপি আর খুচরা পর্যায়ে ৬৫ টন ইউরিয়া, ৫৬ টন টিএসপি, ১৫ টন এমওপি ও ১৭০ টন ডিএপি সার মজুদ রয়েছে। এছাড়া ডিলারদের কাছে আগের এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশি লাভের আশায় কেনা সারও মজুদ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলারদের দোকানে পর্যাপ্ত সার আছে। কিন্তু আক্কেলপুর কলেজ বাজার এলাকায় ১৫টি এবং কালাই পৌর এলাকায় ১০টি খুচরা দোকানে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না কৃষক। বাধ্য হয়ে তারা ডিলারদের দোকানে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় করে ক্যাশ মেমো ছাড়াই অতিরিক্ত দামে অল্প পরিমাণে সার কিনে বাড়ি ফিরছেন।

দুদিন ধরে আক্কেলপুর পৌর শহরের বিসিআইসির ডিলার মেসার্স আবু তালেব সরদারের দোকানে এবং কালাই পৌর শহরের পাঁচশিরা বাজারের বিসিআইসির ডিলার মেসার্স কালাই রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবির তালুকদারের দোকানে সার নিতে আসা কৃষকের ভিড় দেখা গেছে।

আক্কেলপুরের কৃষক এনামুল হক বলেন, খুচরা দোকানে গিয়ে ইউরিয়া সার পাইনি। ডিলারের দোকানে এসেছি। আমাকে ১০ কেজি ইউরিয়া সার দিয়েছে। আমার এক বস্তা ইউরিয়া সার দরকার।

কালাইয়ের কৃষক আজমল হোসেন বলেন, আমার ২০ কেজি সার দরকার। আমাকে পাঁচ কেজি সার দিয়েছে। হাতিয়ার বাজারে খুচরা দোকানে কোনো সার নেই। কালাই উপজেলার কলেজ বাজারের খুচরা সার (সাব-ডিলার) বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনুমোদিত ডিলাররা আমাদের সার দিচ্ছেন না। আবার সারের যে দাম নেয়া হচ্ছে তাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি না করলে লোকসান হবে।

আক্কেলপুরের বিসিআইসির ডিলার আমিনুল ইসলাম ও কালাইয়ে বিসিআইসির ডিলার হুমায়ন কবির তালুকদার বলেন,  পর্যাপ্ত সার না থাকায় কমবেশি করে কৃষককে দেয়া হচ্ছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া হচ্ছে না। বরাদ্দ বেশি পেলে  তাদেরও সার দেয়া হবে।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষক আমন মৌসুমে অতি উৎসাহিত হয়ে ভবিষ্যতে এ সার না পাওয়ার আশঙ্কায় আলু চাষের জন্য অগ্রিম মজুদ করছেন। এ কারণে কৃষককে কম পরিমাণে সার দেয়া হচ্ছে। দাম বেশি নেয়া এবং ক্যাশ মেমো ছাড়াই সার বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু দোকানে দাম বেশি নেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। কয়েক দিন ধরে এসব দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। এছাড়া অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলীমা জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে তার উপজেলায় সারের কত বরাদ্দ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা অফিশিয়াল বিষয়। এ বিষয়ে আমি জানাতে চাচ্ছি না।

জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সার সংকট মোকাবেলায় এলাকার চাহিদা মোতাবেক বরাদ্দ আনার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।