দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বেহাল হয়ে রয়েছে দোহারের রাইপাড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপ্রসাদ গ্রামে অবস্থিত পোদ্দারবাড়িখ্যাত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘরটি। জরাজীর্ণ এ ভবন যেকোনো সময় ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা স্থানীয়দের।
দোহার উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, স্বাধীনতার ৪৯তম বছর উদযাপন করেছে জাতি। কিন্তু যাদের কারণে এ বিজয় পেলাম আমরা, তাদের স্মৃতি জড়ানো এ জাদুঘর কুচক্রী মহলের কারণে আজও পরিপূর্ণ জাদুঘরে রূপান্তর হলো না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে জাদুঘরটি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোহারের পরিত্যক্ত এ পোদ্দারবাড়িতে ১৯৭১ সালে দোহার ও নবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি (ক্যাম্প) ছিল। স্বাধীনতার পর বাড়িটিকে মুক্তিযোদ্ধারা ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে দোহার উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা বাড়িটিতে যাতায়াত করতেন। দোহার উপজেলাকে পাক হানাদারমুক্ত করতে এ বাড়ির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ বাড়ি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
দোহার চরকুশাই গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম করম আলী বলেন, দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ভবনটি। স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সংস্কারে দোহার উপজেলার অনেক মুক্তিযোদ্ধার অনুদানের বিষয়টিও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে বাড়িটির ভেতরে অবস্থান করতেন দোহার-নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা। এখান থেকে সুসংগঠিত হয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করতেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়িটির জমি প্রায় ৫২ শতাংশ। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ইকরাশী গ্রামের মৃত আনোয়ার খান মেম্বার বাড়িটি লিজ নেন। দীর্ঘদিন তিনি বাড়িটি ভোগ-দখল করেন। পরে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করলে দোহার উপজেলার তত্কালীন নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন লিজ বাতিল করে ভবন ও জমি দখলমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করেন ও তাদের দলিলপত্র বুঝিয়ে দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর করার ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী অখিল পোদ্দারের বাড়িটি বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশ কৃষকলীগের সহসভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় বাড়িটি নিয়ে দোহার-নবাবগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের একটি লালিত স্বপ্ন। সমাজের বিত্তশালীরা কেউ এগিয়ে এলেই প্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নটি বাস্তবায়ন হতে পারে। গড়ে উঠতে পাড়ে একটি দর্শনীয় মুক্তিযোদ্ধাদের জাদুঘর, যা আগামী প্রজন্মকে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হতে সাহায্য করবে।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘরটি দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ। তাদের স্মৃতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামে স্মৃতিবিজড়িত ভবনটির উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।










