দেশীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতকে সুরক্ষা দেয়া, কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার ও ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। আজ রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিনিং শিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এ দাবি তুলে ধরেন সালমা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার আজহার আলী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গত ৭ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত রফতানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থা দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা তৈরি এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
আজহার আলী বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ থাকায় প্রকৃত রফতানিকারকদের কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার ব্যবহার বাড়লে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ মিলগুলো চালু হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।
বর্তমানে দেশে ৫৩০টি স্পিনিং মিল রয়েছে। এসব মিলের বার্ষিক সুতা উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা কমপক্ষে ৮২০ কোটি কেজি। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে ১১৭টি স্পিনিং মিল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে ৪১৩টি মিল চালু রয়েছে। চাল থাকা মিলগুলোর ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতাই প্রায় ১৩০ কোটি কেজি।
এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানি হয়েছিল ২১ কোটি ৬০ লাখ কেজি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬ কোটি কেজিতে। মাত্র দুই অর্থবছরে এই শ্রেণির সুতা আমদানির পরিমাণ প্রায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার ও ব্যাংক গ্যারান্টি ব্যবস্থা বহাল রাখা, শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা, একটি সমন্বিত টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক নীতি গ্রহণ করা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য উৎপাদনে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া।
প্রাথমিক টেক্সটাইল খাতে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে ৩০ লাখ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার ব্যবহার বাড়লে দেশীয় তৈরি পোশাক খাতে মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং সুতা আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমবে।
আজহার আলী বলেন, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। তারা চান ন্যায্য প্রতিযোগিতা, স্থিতিশীল নীতি, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ এবং প্রকৃত রফতানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা। দেশীয় স্পিনিং শিল্প সচল থাকলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রফতানি সক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিনিং খাতে কর্মরত সাধারণ শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।










