বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতদের ফোন করা হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে। ফোনকলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ করা হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসে ফোন করেছে চক্রটি। ছদ্মনামে ফোন করে বিদেশী কূটনীতিকদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
গুলশানের কূটনীতিক পাড়ায় অবস্থিত কসোভো দূতাবাসে গত ৭ জুলাই একটি ফোন আসে। ফোনকল করা ব্যক্তি নিজেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. দেওয়ান মো. শাহারিয়ার ফিরোজ (যুগ্ম সচিব) বলে পরিচয় দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলবেন জানিয়ে কসোভো রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ফোন নম্বর চাওয়া হয়। আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য চাওয়ার একপর্যায়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যও সরবরাহ করেন ফোন করা ব্যক্তি।
এ ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেছে পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগ। অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করেন পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক মো. ফরহাদ হোসেন। এজাহারে তিনি বলেন, গত ৭ জুলাই ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগে ডিউটি করার সময় বেতার মারফতে জানতে পারি যে রাত সাড়ে ৯টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. দেওয়ান মো. শাহারিয়ার ফিরোজের (যুগ্ম সচিব) পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কসোভো রাষ্ট্রদূতকে ফোন করেন। ফোনে তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে জরুরি কথা বলবেন। তার ফোন নম্বরটি দরকার। পাশাপাশি কসোভো রাষ্ট্রদূতকে বেশকিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যও সরবরাহ করা হয়। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে জানা যায়, ড. দেওয়ান মো. শাহারিয়ার ফিরোজ এ-সংক্রান্ত কোনো ফোন করেননি।
মো. ফরহাদ হোসেন জানান, কসোভো দূতাবাস ছাড়াও সম্প্রতি কাতার দূতাবাস, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, ব্রিটিশ হাইকমিশন, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনসহ বেশকিছু রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও তাদের অফিসে ফোন করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রদূতদের ফোন নম্বরও চাওয়া হয়েছে। ছদ্মবেশ ধারণ করা অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতদের ফোন করে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়।
পুলিশ বলছে, প্রতারণার উদ্দেশ্যে অন্যের পরিচয় ধারণ করে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য রাষ্ট্রদূতদের মাঝে ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী কূটনীতিকদের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেন গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে চাননি তিনি।










