শেষ সময়ে জমে উঠেছে অমর একুশে বইমেলা। বিক্রি বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত বইয়ের। করোনাকালের দ্বিতীয় বইমেলা শেষ হবে আগামী বৃহস্পতিবার। গতকাল শেষ ছুটির দিনে পাঠক উপস্থিতি ছিল অন্যদিনের চেয়ে বেশি। এবারের মেলা প্রকাশনা শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিন বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, গতকাল মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়। সকাল থেকেই মেলায় আসতে শুরু করেছে বইপ্রেমীরা। স্টল ঘুরে ঘুরে তারা বই দেখছেন, কিনছেন। করোনা সংক্রমণের কারণে অন্য বছরের মতো এবার ছুটির দিনে রাখা হয়নি শিশুপ্রহর। তবে শিশুদের বই নিয়ে আলাদা ‘শিশু চত্বর’ রাখা হয়েছে। গতকাল মেলায় শিশুদের উপস্থিতিও ছিল বেশি। শিশুপ্রহর না থাকলেও বাবা-মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বেড়িয়েছে শিশুরা। কেউ কেউ কিনেছে সচিত্র নানা বইও।
মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, করোনার পর এ ধরনের বড় আয়োজন মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে। শুরুর দিকে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে মেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত শুরু হয়েছে এবং এখন শেষ সপ্তাহ চলছে। প্রতিটি বন্ধের দিনে মেলায় মানুষের উপস্থিতি দেখে পাঠক-বিক্রেতাদের সাহস অনেকটাই বাড়ে।
ঐতিহ্য, সময় প্রকাশন, পাঞ্জেরী, জিনিয়াস, সালাউদ্দিন বইঘর, সরল রেখা প্রকাশনা সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি স্টলের বিক্রয়কর্মী ও স্বত্বাধিকারীরা জানান, ওমিক্রনের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় সন্তোষজনক উপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আশাবাদী তারা। তবে ছোট প্রকাশকদের বিক্রি কম বলে জানিয়েছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত বই বেশি কিনছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
সরল রেখা প্রকাশনা সংস্থার স্বত্বাধিকারী নাজমুস সায়াদাত বলেন, বইমেলা হলো বই প্রদর্শনীর আয়োজন। মানুষ আসবে, বই দেখবে। বেচাবিক্রি কম হোক বেশি হোক সেটা অন্য বিষয়। দর্শনার্থীরা আসছে, দেখছে সেটা আমাদের জন্য বড় কথা। গতবারের চেয়ে তুলনামূলক বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। গতবার তো আমরা বিপুল লোকসান গুনেছি। এ বছর খুব বেশি লাভ না হলেও বড় ধরনের লসের মুখ দেখতে হবে না।
সালাউদ্দিন বইঘরের স্বত্বাধিকারী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘এবার যে আশঙ্কা নিয়ে মেলা শুরু করেছিলাম তার থেকে ভালো কিছুই হচ্ছে। ক্রেতাদেরও অনেক ভিড়। প্রচুর দর্শনার্থী আসছেন। দেখছেন, কিনছেন। আশা করছি, গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবারের মেলা বড় ভূমিকা রাখবে।’
এবারের বইমেলায় সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন লেখকরাও। লেখক আনিসুল হক বলেন, করোনার ভয় জয় করে আমরা বইমেলা করতে পেরেছি এটাই বড় কথা। মানুষ বই দেখতে আসছে এটা আমাদের অনেক বড় অর্জন। মেলায় বেশকিছু মানসম্মত বই এসেছে। মানহীন বইও অনেক। তবে ভুল করতে করতেই নতুনরা শিখবে। তাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। নতুনদের মধ্য থেকেও অনেকে ভালো করছেন। সামনের বার মেলা আরো সুন্দর হবে আশা করছি।
সার্বিক বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, বেশ শঙ্কা নিয়ে মেলা শুরু হয়েছিল। পাঠক-দর্শনার্থী, প্রকাশকদের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত সুন্দরভাবেই মেলা চলছে। এবারের মেলা প্রকাশনা শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। মেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ব্যাপক সুবিধা রাখার কারণেই দর্শক উপস্থিতি বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।










