নভেল করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে প্রায় দেড় লাখ পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এসব পরিবারকে সহায়তার জন্য জেলায় পাঁচ ধাপে ১ হাজার ৮৫০ টন চাল ও ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে এসব সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে, করোনা রোধে আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে সাময়িকভাবে কর্মহীন ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য কক্সবাজারে এ পর্যন্ত পাঁচ দফায় ১ হাজার ৮৫০ টন জিআর চাল ও ৯৬ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ এবং শিশুখাদ্য ক্রয় বাবদ ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইউএনওর মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে পাওয়া চাহিদার ভিত্তিতে সরকার থেকে প্রাপ্ত সহায়তা পরিবার সংখ্যা, দারিদ্র্য, ঝুঁকির মাত্রা প্রভৃতি বিবেচনায় উপজেলাভিত্তিক সমভাবে বিতরণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সদরের ২৬ হাজার ১০২ পরিবারের মাঝে ৩০২ দশমিক ৮ টন চাল, রামুর ৮ হাজার ৪৫২ পরিবারে ১১৯ টন, চকরিয়ার ৩১ হাজার ৮৯৯ পরিবারে ৩১৫ টন, পেকুয়ার ১১ হাজার ৮২৬ পরিবারে ১১৮ টন, মহেশখালীর ৯ হাজার ৫১৯ পরিবারে ১৫১ টন, কুতুবদিয়ার ৬ হাজার ৫০৫ পরিবারে ১০০ টন, উখিয়ার ৭ হাজার ৪৮৮ পরিবারে ৬৫ টন ও টেকনাফের ৫ হাজার ৩৪২ পরিবারের ৬৯ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

এছাড়া পৌরসভাভিত্তিক আলাদা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ হাজার ৪৭৩ পরিবারের ১২৫ দশমিক ২ টন, চকরিয়ায় ১০ হাজার ৬৬৩ পরিবারে ১১১ টন, মহেশখালীতে ৩ হাজার ১০০ পরিবারের ৫২ টন ও টেকনাফে ৪ হাজার ৭০ পরিবারে ২২ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সর্বমোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৯ পরিবারের জন্য সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ৫৫০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া জিআর ৭৫ লাখ ৮৩ হাজার ১০৮ টাকা এবং শিশুখাদ্য বাবদ ২১ লাখ টাকা উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে জরুরি পরিস্থিতিতে বিতরণের জন্য ৩০০ টন জিআর চাল, ২০ লাখ ১৭ হাজার টাকা জিআর নগদ ও শিশুখাদ্য ক্রয় বাবদ ৬ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। তারা এ পর্যন্ত জেলার আটটি উপজেলায় ৪৯ হাজার ৮১৭ জন উপকারভোগীর কাছে নগদ অর্থ সহায়তা বাবদ ১ কোটি ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং ২ কোটি ৫৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছেন।

জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২০ কেজি হারে চাল প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কক্সবাজার জেলায় ৭৫ হাজার পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে। ২ মে কক্সবাজারে কভিড-১৯ সংক্রান্ত কার্যাবলি সমন্বয়ের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সংসদ সদস্য, মেয়র, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রাপ্ত ৭৫ হাজার পরিবারের বরাদ্দ সর্বশেষ জাতীয় আদমশুমারির জনসংখ্যা অনুযায়ী বিভাজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, জেলায় ত্রাণ তত্পরতা সন্তোষজনক। এখন সময় সবাই মিলেমিশে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোল্লা মাসুদুর রহমান জানান, উপজেলাগুলোয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত চাহিদা অনুসারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সব উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়নি।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ত্রাণ বিতরণে সম্ভাব্য উপকারভোগীর নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন একটি কঠিন কাজ। সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রণীত তালিকাই চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া, একই মানুষ একাধিক সুবিধা পাওয়া, বেনামি মানুষের অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে থাকে। ত্রাণ বিতরণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা থাকায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ে তালিকা প্রণয়ন করা হয় বলে পুরোপুরি নির্ভুল একটি তালিকা প্রণয়ন করা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন কর্মসূচির সহায়তায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণে দ্বৈততাসহ অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিহার করা সম্ভব হবে।