কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস বলেছেন, ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের সামগ্রিকভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একসঙ্গে কাজ করার পদ্ধতি হবে ইন্টারসেকশনাল। এর অর্থ হলো পরিবর্তন আনতে আমাদের সব লিঙ্গ ও বিশ্বাসের মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতাবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ প্রকল্পের সফলতা ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে কানাডা সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত পাঁচ বছর মেয়াদি সিজিবিভি প্রকল্পের ফলাফল উত্থাপন করেন ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শ্রবণা দত্ত। সিজিবিভি প্রকল্পটি নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, কমিউনিটি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছে উল্লেখ করে উত্থাপিত ফলাফলে বলা হয়।

উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে এভিডেন্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২২ সবচেয়ে বড় অর্জন। চার বছর মেয়াদি অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে এ আইনে সংশোধনী নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। যার ফলে এখন থেকে আদালতে ধর্ষণের মামলায় ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। এছাড়া সিজিবিভি প্রকল্প থেকে ১২টি সরকারি ও বেসরকারি কর্মস্থলে যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ নিরসন কমিটি (কমপ্লেইন্ট কমিটি) প্রতিষ্ঠা ও কমপ্লায়েন্সের জন্য অতিরিক্ত ৭৮টি কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‌পুরুষদের যত বেশি আমরা এ ধরনের প্রোগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করব, সমতা অর্জন ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা হ্রাস করা আমাদের জন্য তত বেশি সহজ হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘‌সরকার, অলাভজনক সংস্থা এবং সুশীল সমাজসংশ্লিষ্ট সংস্থা—আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাই। নারীর প্রতি সহিংসতা হ্রাসে আমরা সবাইকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে প্রত্যাশী।’

বিশেষ অতিথি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘‌আমাদের মানবতা ও বিশ্বাসের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি তা করতে পারি, তবেই সংখ্যাগতভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা আমরা কমিয়ে আনতে পারব।’

ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং বলেন, ‘‌প্রতিরোধ কর্মসূচি কার্যকর ফলাফল দেয়। এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। এ পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে একযোগে কাজ করার এখনই সময়।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন বিশেষজ্ঞ মেলিসা আলভারাদো, ব্যারিস্টার সারা হোসেইন প্রমুখ।