রাজবাড়ীতে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে শুক্রবার কয়েক দফায় হামলার পর ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার দিন পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
হামলার পর দরবারের ভেতরে চারদিক এখন ধ্বংসস্তূপ। গতকালও ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কেউ কেউ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ থেকে চাল, ডালসহ জিনিসপত্র কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে গোয়ালন্দ বাজার আনসার ক্লাব চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে আসেন শত শত মানুষ। বেলা আড়াইটার দিকে হাতুড়ি, শাবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক মিছিল নিয়ে আসে। এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি মঞ্চে জমা দিতে বলা হয়। এ ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিতে বারণ করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজরে এলে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে মঞ্চে বক্তব্য চলাকালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক চড়াও হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশের দুটি গাড়ি ও ইউএনওর গাড়ি ভাংচুর করেন তারা।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ওপর হামলায় অন্তত ১০-১২ জন সদস্য আহত হন। হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ দেয়নি।










