ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাঁদপুরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। এ তালিকায় রয়েছে ৯০২টি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে। ফলে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার সঞ্চার হয়। পাশাপাশি যথাযোগ্য মর্যাদায়  দিবসটি পালনও ব্যাহত হচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চাঁদপুরে ২৯৩টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টি ও ১ হাজার ১৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৫২টিতে নেই শহীদ মিনার। শহীদ মিনার না থাকায় প্রতি বছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বানিয়ে এমনকি দেয়ালে শহীদ মিনারের ছবি এঁকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দিবসটি পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। 

জেলার মধ্যে চাঁদপুর সদরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশগুলোয় শহীদ মিনার নেই।  চাঁদপুর সদরের ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫১টিতে শহীদ মিনার নেই। হাইমচর উপজেলায় ৬২টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। 

১৯৭৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজের তৎকালীন ভিপি শাহজাহান চৌকদার ও জিএস আ. রাজ্জাক রাজার প্রচেষ্টায় কলেজের খেলার মাঠের পশ্চিম পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়।

২০০৮ সালে জেলা প্রশাসন, পৌর পরিষদসহ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদানে শহরের কোর্ট স্টেশনের পূর্ব দিকে রেলওয়ের জায়গায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। সে থেকেই এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহরের বিভিন্ন স্তরের জনগণ, শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আসছে। 

চাঁদপুর শহরের হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা সাফি বলেন, ‘‌আমার বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। তবে ছাত্রছাত্রীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে দিবসটি পালন করে। সব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তারা জানতে ও বুঝতে পারবে।’ 

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাইম বলেন, ‘‌সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় নিজ উদ্যোগে শহীদ মিনার করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।