বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত তিল আবাদ করে ময়মনসিংহের কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। ফলে বারি তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
বারি সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহে তিলের আবাদ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে গিয়েছিল। কিন্তু বারি উদ্যোগ নিয়ে আবার কৃষকদের দিয়ে তিল চাষ শুরু করানো হয়। উদ্ভাবিত এ তিল চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এ বছর ত্রিশালের বালিপাড়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের ১০০ বিঘা জমিতে বারি তিল-৩ ও ৪ জাতের আবাদ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জমিতে তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়ায় বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাতের তিল ফসলের উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন প্রযুক্তি শীর্ষক মাঠ দিবসে কৃষি বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।
বারি সরেজমিন বিভাগ ময়মনসিংহের আয়োজনে ও তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের অর্থায়নে এ মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার।
সরেজমিন বিভাগ ময়মনসিংহের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. এমরাউল ইসলামের সঞ্চালনায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র জামালপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মঞ্জরুল কাদির, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের সমন্বয়ক ড. ফেরদৌসী বেগম, বীজ প্রযুক্তি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবু হেনা ছরোয়ার জাহান, ত্রিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদল প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন কোনো জায়গা খালি রাখা যাবে না। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বারি কাজ করে যাচ্ছে। বারি উদ্ভাবিত তিল চাষে তেমন কোনো খরচ নেই, পানির প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি তিলের তেল ত্বক আর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। পতিত জমিতে তিল চাষ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারলে ভোজ্যতেল আমদানি খরচ থেকে মুক্তি পাবে সরকার।
তিনি আরো বলেন, বারি তিল-৪ একটি তেলজাতীয় জাতের ফসল। এ জাতের তিল ৯০-৯৫ দিনের মধ্যে কর্তন করা যায় এবং উৎপাদনের হার বিঘাপ্রতি ৫ মণ। তাছাড়া এ তিলে মোট আটটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে, সাধারণ তিলে মাত্র চারটি প্রকোষ্ঠ বিদ্যমান। ফলে সাধারণ জাতের তিলে যেখানে প্রতি কেজিতে ২৫০ গ্রাম তেল পাওয়া যায় সেখানে নতুন বারি তিল-৪ জাতে প্রতি কেজিতে ৪৫০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। এটির তেল স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এ জাতের তিল চাষ সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, নদীর পাড়ের জায়গা আগে পতিত থাকত, কোনো ফসল চাষ হতো না। বারি সরেজমিন গবেষণা বিভাগ ময়মনসিংহ আমাদের পাশে থেকে তিলের উন্নত চাষাবাদের কলাকৌশল শেখাচ্ছে। আমরা দুই বছর ধরে তিল চাষ করছি। খেতে প্রচুর পরিমাণে তিল ধরেছে। আমরা এতে লাভবান হব বলে আশা করছি।
বারির বিজ্ঞানীরা জানান, তিলে কোনো কোলেস্টেরল নেই। এটি নিরাপদ ভোজ্যতেল। স্থানীয় জাতের তিল হেক্টরে ৫০০-৬০০ কেজি ফলে। কিন্তু বারি তিল হেক্টরে ফলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি










