নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের গুল্লাখালী এলাকায় নিজ বাড়ির উঠান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন প্রবাসী রবিউল হোসেনের স্ত্রী লুত্ফা বেগম (৪৫) ও তার মেয়ে চাঁদনী বেগম (৭)।

নিহতদের স্বজনরা জানান, স্বামী বিদেশে থাকায় গুল্লাখালীর বাড়িতে মেয়ে চাঁদনীকে নিয়ে থাকতেন লুত্ফা বেগম। গতকাল দুপুরে বড় মেয়ে নাদিয়া একই উপজেলার সোনাদিয়ার স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসেন। এসেই উঠানে মা লুত্ফা বেগম ও ছোট বোন চাঁদনীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার কান্নায় আশপাশের লোকজন এসে পুলিশে খবর দেয়। বিকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত লুত্ফার বড় মেয়ে নাদিয়া জানান, তার স্বামী চাটখিলে চাকরি করেন। কয়েকদিন আগে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন নাদিয়া। ফের চাটখিল যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। বাড়িতে আসার পর তার মা ও বোনকে একাধিকবার ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বসতঘরের পাশের উঠানে তাদের দুজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

নিহত লুত্ফা বেগমের ভাই কাউসার অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। লুত্ফার সঙ্গে কয়েকজন প্রতিবেশীর জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ আছে। এর আগেও তারা কয়েকবার লুত্ফার ওপর হামলা চালিয়েছিল। এসব ঘটনায় গত দু-তিনদিন আগেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সালিশি বৈঠক হয়েছিল।

হাতিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাঞ্চন কান্তি দাস বলেন, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।