ফেনীতে কয়েক মাস ধরে একের পর এক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তবে এখন কারো মৃত্যু না হলেও মশাবাহিত রোগটির প্রকোপ বাড়ায় জনমনে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পৃথক একটি ইউনিটকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। ওয়ার্ডের বিভিন্ন দরজায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা সাঁটানো হলেও বিশেষ এ ইউনিটে কোনো রোগী রাখা হচ্ছে না। সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের। হাসপাতাল থেকে তেমন কোনো পথ্যও দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি মাসে জেলায় ১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আগস্টে আক্রান্ত হয় ৪৯ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি তিনজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত মহিউদ্দিন। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখলেও তাকে দেয়া হয়নি মশারি। হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়নি তেমন কোনো ওষুধ।
তার স্বজনরা জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য আলাদা কোনো স্থান আছে কিনা সেটা তাদের জানা নেই। প্রতিদিন সকালে ডাক্তার এসে কিছু ওষুধ লিখে দেন। তারা ফার্মেসি থেকে কিনে আনেন। নার্সরা মশারি কিনতে বলেছেন। এখনো তা কেনা হয়নি।
নতুন ভবনের পঞ্চম তলায় দেখা যায়, সেখানে পৃথক একটি ইউনিটকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘোষণা দিয়ে সাইনবোর্ড লাগানো হলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম নেই। ওয়ার্ডের বিভিন্ন দরজায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা সাঁটানো হলেও বিশেষ এ ইউনিটে কোনো রোগী রাখা হচ্ছে না।
মেডিসিন ওয়ার্ডের হাসমত আরা আক্তার নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘দুদিন ধরে আমাদের পাশেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে। পঞ্চম তলায় ডেঙ্গু ইউনিট থাকলেও সেটি অজ্ঞাত কারণে অচল রাখা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে এখন পর্যন্ত মশারিও দেয়া হয়নি। এ কারণে আমরা সবাই আতঙ্কে রয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, ‘হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড ইউনিট করা হয়েছে। রোগীকে সেখানে না নিয়ে কী কারণে মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তা আমি জানি না। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হবে।’
ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে ফেনী পৌরসভা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। সব ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
ফেনী পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে বিশেষ টিম গঠন করে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।’
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. খালেদ মাহমুদ জানান, ডেঙ্গু মূলত এডিস মশার মাধ্যমে মানবদেহে ছড়ায়। এটি মানুষের শরীরের প্লাটিলেট কমিয়ে দেয়। এতে করে কখনো কখনো আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ডাব, স্যালাইন ও তরল পানীয় পান করাতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম। তিনি বলেন, ‘বাসার আশপাশে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে থাকতে হবে। হালকা আলোতে থাকতে হলে মশক প্রতিরোধক ব্যবহার করতে হবে।’










