পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অনেকগুলো মাছ ধরা ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সোনাচরের পূর্ব-দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ট্রলারগুলো থেকে মাছ, তেল, নগদ টাকা ও মোবাইল সেট লুট করে নেয় ডাকাত দল। ডাকাতি শেষে ৯ জেলেসহ এফবি ভাই ভাই নামের একটি ট্রলার ডুবিয়ে দেয় তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা।
ডুবিয়ে দেয়া ট্রলারের ৯ জেলেকে উদ্ধার করে গতকাল শুক্রবার রাতে মৎস্য বন্দরে নিয়ে এসেছে মা বাবার দোয়া নামের একটি ট্রলার।
ডুবিয়ে দেয়া ট্রলার ও ডাকাতির শিকার হওয়া জেলেরা জানান, ২২-২৩ সদস্যের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। ট্রলারের মাছসহ সকল মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বেশ কয়েকটি ট্রলারে ডাকাতি করে তারা। এসময় একটি ট্রলার ডুবিয়ে দেয় ডাকাত দল।
এফবি মা বাবার দোয়া ট্রলারের মাঝি জিয়া মিয়া বলেন, কোনো কিছু বোঝার আগেই ডাকাত দল ট্রলারে উঠে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। সবাইকে মারধর করে ট্রলারে থাকা সব মালামাল নিয়ে গেছে।
মহিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বলেন, ৬৫ দিনে নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পরা শুরু করেছে। এরই মধ্যে জলদস্যুরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডাকাতি হওয়া ট্রলারের মধ্যে ৭টি মহিপুরের। এছাড়া বাকি ট্রলারগুলো বিভিন্ন এলাকার বলে তিনি জানিয়েছেন।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ জানান, এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
নিজামপুর কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার মো. আরিফ বলেন, ডুবিয়ে দেয়া ট্রলারের জেলেদের উদ্ধার করা হয়েছে।
পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে দেখার জন্য বলা হয়েছে।










