রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রিখটার স্কেলে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার ( ২ ডিসেম্বর ) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের পলেস্তারা খসে পড়া ও দরজার গ্লাস ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আবাসিক হলগুলোতে আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে অনেকে আহত হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূমিকম্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের কয়েকটি কক্ষের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়েছে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্প শুরু হলে সবাই কক্ষ থেকে বেরিয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকেই দ্রুত হলের কক্ষ ছেড়ে বাইরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেন। এ সময় সবার চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক ও উদ্বেগের ছাপ। অনেক শিক্ষার্থীই আধঘণ্টা পর্যন্ত বাইরে অবস্থান করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, ৬০ বছরের পুরনো এই হলে প্রায়ই ইট-সিমেন্টের পলেস্তারা খসে পড়ে। ছাদের ঢালাইয়ের ভেতরে থাকা রডও এখন বাইর থেকে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েক স্থানে। অতীতে এ হলে সিলিংয়ে লাগানো ফ্যানও হঠাৎ খুলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ভবনের ছাদ থেকে বড় আকারের এই পলেস্তারার টুকরা খসে পড়ায় শিক্ষার্থীরা যে কোনো সময় জখম হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আজকে ভূমিকম্পে বেশ কয়েক জায়গায় এরকম ফাটল, পলেস্তারা খুলে পড়েছে। এ ছাড়া পাঠকক্ষের দরজার গ্লাসও ভেঙেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গতবার ভূমিকম্পেও আমাদের হল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন আমরা বুয়েটের বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী হল সংস্কার করেছি। আগামীকাল রোববার প্রকৌশল দপ্তরকে জানিয়ে যেসব স্থানে আজকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পুরনো হল হওয়ায় এগুলো ঘটছে।’ তিনি শিক্ষার্থীদেরকে এরকম বিষয় ঘটলে তাকে অথবা হল অফিসে জানানোর অনুরোধ করেছেন।

ভূমিকম্পের তীব্রতা বিবেচনায় ভবন নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, এজন্য যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের বড় কিংবা মাঝারি ভূমিকম্প হতে পারে। সুতরাং, তীব্রতা বিবেচনায় রেখে আমাদের ভবন নির্মাণ করা উচিত।’