নরসিংদী পৌরসভার আয়তন ১০ দশমিক ৩২ বর্গকিলোমিটার। ১৯৭২ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটি ১৯৯৬ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়। তবে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি জন-অধ্যুষিত পৌরসভার বেশির ভাগ সড়কই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির বেশির ভাগ সড়কে বৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে।

পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, পৌর এলাকার প্রধান সড়ক ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে বেশকিছু হাসপাতাল। একটু বৃষ্টিতে সড়কের যে অবস্থা হয় তাতে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যায় না। শুধু সড়ক নয়, পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থপনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণেও সফলতা দেখাতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে নরসিংদী পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে বেশির ভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ১৭টি স্পট চিহ্নিত করেছি। এছাড়া কিছু কিছু জায়গায় সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডার দেয়া হয়েছে। যেগুলোর টেন্ডার দেয়া আছে, সেগুলোর কাজ চলবে। কার্পেটিংয়ের কাজ বর্ষার কারণে বন্ধ রয়েছে। আপাতত কিছু জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

নরসিংদী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলে ই রাব্বি জানান, জেলখানা মোড় থেকে জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের আওতায়। সড়কটি মেরামতসহ সব ধরনের কাজই প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা করবে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর নিকটবর্তী নরসিংদী পৌরসভাটি ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি ‘গ’ শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭৮ সালে ‘খ’ শ্রেণী এবং ১৯৯৬ সালে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ১৯৭২ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। তার সময়ে পৌরসভার বেশকিছু উন্নয়ন হয়েছিল। পৌরসভায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থাকলেও যাতায়াতের সড়কগুলো বেহাল। এসব দপ্তরে সেবা নিতে আসা লোকজন প্রতিনিয়তই পড়ছে ভোগান্তিতে। পৌর শহরের জেলখানা মোড়, ভেলানগর, মালাকার, দোয়েল চত্বর, বাজির মোড়, রাঙ্গামাটিয়া, কাজী মার্কেট, শাপলা চত্বর, বাসাইল, তরোয়া, বানিয়াছল, বৌয়াকুড়, নরসিংদী বড় বাজার, দত্তপাড়াসহ বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয়েছে গর্ত।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এএনএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ দিয়ে যাওয়া জেলখানা মোড় থেকে জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা শোচনীয়। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। এমনও হয়েছে যে একজন রোগী দেখতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিজেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।’