উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই আজকে বাংলাদেশে উন্নয়ন হয়েছে। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ার সময়ে বাংলাদেশের উন্নতি হয়নি; বাংলাদেশ পেছনে চলে গেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।’ বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে গতকাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

এদিন বেলা ১টায় বরিশাল সার্কিট হাউজে পৌঁছান আওয়ামী লীগ সভাপতি। এরপর বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানের জনসভা মঞ্চে আসেন তিনি। নেতাকর্মীরা তাকে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। 

নতুন ভোটারদের নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি তারুণ্যের শক্তিই বাংলাদেশের অগ্রগতি। তরুণ ভোটার যারা সেই নতুন ভোটারদের কাছে আমার আহ্বান, যারা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসবেন তারা নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনার প্রথম ভোটটি ব্যর্থ হোক, কাজেই আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করবেন।’ 

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সবাইকে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আহ্বান, আপনারা ৭ তারিখ একেবারে সকালে সবাই ভোট দিতে যাবেন। নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। এ নৌকায় ভোট দিয়ে আজকে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। এ নৌকায় ভোট দিলে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বরিশাল বিভাগের নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে জনগণের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য ভোট প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের জন্যই কাজ করে যাই। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমি গড়তে চাই। আমার জীবনে যত বাধাই আসুক, একে একে সব অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। বিএনপি হচ্ছে একটা সন্ত্রাসী দল। এ সন্ত্রাসী দলের কোনো রাজনীতি করার অধিকার বাংলাদেশে নেই। কারণ তারা মানুষ পোড়ায়, মানুষ হত্যা করে।’

বিএনপিকে মানুষ আর চায় না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৩-১৪ সালের পর আবার এখন অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে। আমি ধিক্কার জানাই ওই বিএনপি-জামায়াতকে। আমাদের রাজনীতি মানুষের কল্যাণে, ওদের রাজনীতি মানুষ পোড়ানোয়। তাদেরকে কি মানুষ চায়? তাদের আর চায় না।’ তিনি বলেন, ‘এরা নির্বাচন চায় না, সেজন্য নির্বাচন বানচাল করতে চায়।’

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া। আমাদের ছেলে-মেয়েরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তি শিখে যারা দক্ষ জনশক্তি হবে, তাদের স্মার্ট জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলব। আমাদের সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্মার্ট সরকার হবে। আমাদের অর্থনীতি স্মার্ট হবে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হবে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা হবে স্মার্ট। তার জন্য আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দক্ষিণাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেটা মাথায় রেখে “‍ডেল্টা প্ল্যান-২১০০” অর্থাৎ ২১০০ সাল পর্যন্ত উন্নয়নের পরিকল্পনা আমরা করে দিয়েছি। এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। এটা একমাত্র আওয়ামী লীগই করতে পারবে। আর নৌকা মার্কায় ভোট দিলে তারাই পারবে আর কেউ পারবে না। অগ্নিসন্ত্রাসী বা লুটেরা বা এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীরা কেউ পারবে না—সে কথাটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। এতে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম প্রমুখ।