যশোরে কিশোরী গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় কেতোয়ালি থানায় শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুজনকে আসামি করে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন গৃহকর্তা সরকার শামীম আহমেদ ওরফে অংকু (৩২) ও তার স্ত্রী জিন্নাত রেহেনা জুঁই (২৭)। দুজনই বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন।
নির্যাতনের শিকার কিশোরী ফিহা মণি দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার মাঝপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে।
মেয়েটির মা ফরিদা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ের একটি পা ও একটি চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। নির্যাতনে পা ভেঙেছে কিনা দেখার জন্য হাসপাতালের ডাক্তার এক্স-রে ও আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমে যাওয়ায় রক্তসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেছে। এছাড়া এখানে আমাদের থাকা-খাওয়ার খরচের টাকাও কাছে নেই। এখন মেয়েটির চিকিৎসা করাব কী করে।’
এর আগে গত ১২ এপ্রিল রাত ১টার দিকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার কিশোরী গৃহকর্মী ফিহা মণিকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে যশোরের ঘোপ এলাকা থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। সে গত ৯ মাস ধরে যশোর শহরের ঘোপ এলাকায় সিনজেনটা কোম্পানির সেলস ইউনিট ম্যানেজার সরকার শামীম আহমেদ অংকুর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করত। পুলিশ উদ্ধারের পর ফিহা মণিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগে শিশু নির্যাতন আইনের ৭০ ধারায় দুজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মেয়েটির পরিবারের স্বজন আসতে দেরি করায় মামলা দায়েরের আগেই বৃহস্পতিবার বিকালে ৫৪ ধারায় আটক দুজনকে আদালতে চালান দেয়া হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে রাতে মামলা হয়েছে।’










