ফরিদপুর জেলায় ১৪২ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এ সড়কে গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানি হয়েছে ৫৫ জনের। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যান।
পরিবহন চালকদের দাবি, তিন চাকার যানের চালকরা আইন না জানায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর হাইওয়ে পুলিশ বলছে, আইনের প্রয়োগ করেও মহাসড়কে এসব তিন চাকার গাড়ি চলাচল থামানো যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কানাইপুরের দিকনগরে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় নারী ও শিশুসহ ১৫ জন। এ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে আসা চারটি কারণের মধ্যে মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ির বেপরোয়া চলাচলকে দায়ী করা হয়েছে।
একই দিন আরেক সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় খুলনা-ভাঙ্গা-ঢাকা মহাসড়কে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জয়বাংলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মা সুরাইয়া বেগম (৩৫) ও ছেলে আজমির বিন মোহাম্মদ আলী (২)। এ সময় বাবা মাওলানা শরিফ আজমির বিন কাসেম (৪০) ও মেয়ে ফাতেমা বিন আজমির (৬) আহত হন। হতাহতরা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমতলী গ্রামের বাসিন্দা।
গত ৮ মার্চ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস খাদে পড়ে মারা যান তিনজন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
গত ৭ মার্চ রাত ২টায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী বাবলাতলায় দ্রুতগতির বাস উল্টে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কাওসার আহম্মেদ ও আব্দুল্লাহিল বাকির মৃত্যু হয়।
এর আগে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এছাড়া তিন নারী ও এক শিশুসহ সাতজন আহত হন। হতাহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী।
এছাড়া গত বছরের ১৭ নভেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে অটোরিকশায় জেলা শহরে আসছিলেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলে মারা যান অটোরিকশা চালক ও দুই পুলিশ সদস্য। আহত হন কয়েকজন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিটি মহাসড়কে মাহেন্দ্র, অটোরিকশা, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান, রিকশা ও নসিমনসহ নানা ধরনের তিন চাকার যান নিয়মিত চলাচল করে। বেপরোয়া গতিতে চলাচল করা এসব গাড়ি মহাসড়ককে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। ইচ্ছামতো মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোসহ নানাভাবে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করছে এই বাহনগুলো।
কয়েকজন বাসচালক জানান, এসব তিন চাকার যানের চালকরা আইনকানুন জানেন না। এলোমেলো গাড়ি চালান। কম গতিসম্পন্ন হওয়ায় দ্রুত গতির গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য শরিফুল ইসলাম আবু সাঈদ বলেন, ‘আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবহারকারীরা সচেতন না থাকায় তারা অননুমোদিত যানবাহন ব্যবহার করছে।’
এদিকে তিন চাকার যানের একাধিক চালক দাবি করেন, তারা পেটের দায়ে মহাসড়কে এসব যান চালান। কানাইপুর, মাঝকান্দিসহ আশপাশের এলাকা থেকে শহরে আসার বিকল্প সড়ক নেই। তাই তারা মহাসড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশে আলাদা সার্ভিস রোড থাকলে তাদের মহাসড়কে চলাচল করতে হতো না।
হাইওয়ে মাদারীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, ‘মামলা দিয়েও মহাসড়কে তিন চাকার যানের চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। সার্ভিস লেন তৈরি এবং জনসচেতনতাই পারে এ সমস্যার সমাধান করতে।’










