সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শিশুদের আত্মত্যাগ জাতি যুগের পর যুগ স্মরণ করবে। এই শিশুদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সরকার সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে।

রোববার (৬ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটিতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শিশু রিয়া গোপের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এ সময় উপদেষ্টা রিয়ার বাড়িতে গিয়ে রিয়ার মা বিউটি ঘোষকে সান্ত্বনা দেন। পরিদর্শনে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো জুলাই অভ্যুত্থানে ১৩৫ শিশু ও ১১ জন নারী শহীদ হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের কারণ যেন বাস্তবে রূপ পায়, সেজন্য সরকার কাজ করছে। শহীদ রিয়ার নামে নির্মিত স্টেডিয়ামে একটি কর্নার থাকবে, যেখানে রিয়া ও অন্য শিশু শহীদদের গল্প থাকবে। সেখানে খেলা করতে আসা শিশুরা জানবে কী কারণে রিয়া প্রাণ দিয়েছিল।

তিনি বলেন, দেশে অনেকেই ভয়-ভীতি বা নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে মামলা করতে পারেন না, বিশেষ করে মেয়ে শিশু বা নারীদের ক্ষেত্রে। এ বাস্তবতা দূর করতে সরকার কাজ করছে। পরে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে শহীদ সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং সুমাইয়ার রেখে যাওয়া শিশু কন্যা সোয়াইবার খবর নেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই চাষাড়া থেকে গুলশান সিনেমা হল পর্যন্ত এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। ওই দিন বিকালে নয়ামাটির চারতলা বাড়ির ছাদে খেলা করছিল শিশু রিয়া গোপ। গুলির শব্দ শুনে মেয়েকে আনতে গিয়ে বাবার কোলেই রিয়া গুলি খেয়ে গুরুতর আহত হয়। চারদিন চিকিৎসাধীন থেকে ২৪ জুলাই সে মারা যায়।