ফেনীর দ্বিতীয় কারাগারের কার্যক্রম চালু হচ্ছে আজ। জেলার পুরনো কারাগারটিকে ফেনী কারাগার-২ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন চলছে ঘষামাজা আর রঙের কাজ। অভ্যন্তরে কক্ষগুলোয় বৈদ্যুতিক পাখা ও লাইটও লাগানো শেষের পথে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন চট্টগ্রাম বিভাগের আট জেলা কারাগার থেকে বিশেষ বন্দিদের ফেনী কারাগার-২-এ স্থানান্তর করা হবে। এ সংখ্যা অন্তত ২০০। এর মধ্যে ফেনী কারাগার-১ থেকে স্থানান্তর করা হবে ২০ জনকে। বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করতে চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি প্রিজন ফেনীতে অবস্থান করবেন।
ফেনী কারাগার-২-এর জেল সুপার মো. দিদারুল আলম জানান, কারাগারকে অপরাধীদের জন্য সংশোধনাগার হিসেবে বাস্তবে রূপ দিতে চায় রাষ্ট্র। তারই অংশ হিসেবে ফেনী, পিরোজপুর, মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জে পৃথক কারাগার প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। তার অংশ হিসেবে ফেনীতে আজ দ্বিতীয় কারাগারের যাত্রা শুরু হচ্ছে। অন্য তিনটির কাজ শেষ না হওয়ায় সেগুলো এখনই চালু হচ্ছে না।
তিনি আরো জানান, পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ জেলার কারাগারে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের ফেনী কারাগার-২-এ স্থানান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে আট জেলার কারাগার থেকে বন্দি স্থানান্তরকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সহযোগিতা করবে। দ্বিতীয় কারাগার চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এতে মানবেতর জীবনযাপন থেকে রেহাই পাবে বন্দিরা। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মেলবন্ধনের সুযোগ হ্রাস পাবে। এতে অপরাধপ্রবণতা কমে মুক্তি পাওয়া বন্দিরা কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পাবে।
১৯১৫ সালে শহরের মাস্টার পাড়ায় দেড় একর জায়গার ওপর প্রথমে উপকারাগার (সাব-জেল) হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যার বন্দি ধারণক্ষমতা ছিল দুজন নারী ও ১৭০ পুরুষ মিলিয়ে ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে উপকারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামো আর অপ্রতুল জায়গায় ধারণক্ষমতার তিন-চার-গুণ বেশি বন্দি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়তই ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।
১৯৯৬ সালে শহরতলির কাজিরবাগ মৌজায় সাড়ে ৭ একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন কারাগারের জন্য ২৮টি ভবন নির্মাণ শুরু হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত কারাগারে দুটি ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, ১০ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ, জেনারেটর ছাড়াও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, অভ্যর্থনা মঞ্চ, প্যারেড গ্রাউন্ড, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার রয়েছে। এ কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা রয়েছে ৩৫০ জন। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি ফেনী জেলা কারাগার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়। সেদিনই আট শতাধিক বন্দিকে পুরনো কারাগার থেকে শহরতলির রানীরহাটে নবনির্মিত জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রশাসন ও রাজনৈতিক সমন্বয় থাকলে কারাগার সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’










