গাজীপুর সাফারি পার্কে বেঁচে থাকা একমাত্র জিরাফটিও মারা গেছে। এর মধ্য দিয়ে জিরাফশূন্য হলো সাফারি পার্কটি। টিউবারকুলোসিস (টিবি) রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে জিরাফটি মারা যায়। তবে গতকাল বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। মারা যাওয়া স্ত্রী জিরাফটি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছিল। এ নিয়ে গত এক যুগে সাফারি পার্কে ১২টি জিরাফের মৃত্যু হলো।
সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে পার্ক প্রতিষ্ঠার সময় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্ত্রী-পুরুষ মিলিয়ে ১২টি জিরাফ আনা হয়। পরে বিভিন্ন সময় জিরাফগুলো চারটি বাচ্চা দেয়। তবে সেগুলো বাঁচেনি। ২০১৮-২২ সালের মধ্যে রোগাক্রান্ত হয়ে নয়টি জিরাফ মারা যায়। সর্বশেষ তিনটি স্ত্রী জিরাফ টিকে ছিল। এরপর ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে একটি, গত বছরে একটি এবং বৃহস্পতিবার সর্বশেষ জিরাফটিও মারা যায়।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, এক সপ্তাহ ধরে জিরাফটি অসুস্থ ছিল। বিষয়টি জানার পর পরই দ্রুত একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা শুরু করে পার্ক কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বোর্ড জানায়, জিরাফটি টিবি রোগে আক্রান্ত ছিল।
জিরাফের মৃত্যুর ঘটনায় সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক রাজু আহমেদ শুক্রবার বিকালে শ্রীপুর থানায় জিডি করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সাফারি পার্কে আফ্রিকান একটি পূর্ণবয়স্ক অসুস্থ স্ত্রী জিরাফ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে মারা যায়। পরে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জিরাফটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তারা প্রতিবেদনে জিরাফটি টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে উল্লেখ করেছেন।










