সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে বন্ধ রয়েছে দেড় মাস ধরে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেও এক্স-রে করাতে পারছে না রোগীরা। বাধ্য হয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করছে। এতে বাড়তি টাকা খরচের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।

তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জনের ডিজিটাল এক্স-রে করানোর প্রয়োজন পড়ে। সরকারিভাবে এলবো জয়েন্ট বি/ভি এক্স-রে করতে খরচ হয় ১৫০ টাকা। এছাড়া রিস্ট জয়েন্ট বি/ভি ১৫০ টাকা, সার্ভিক্যাল স্পাইন ২০০, স্কাল বি/ভি ২০০, পিএনএস ১৫০, লাম্বার স্পাইন বি/ভি ২০০, ডরসাল স্পাইন বি/ভি ২০০, কেইউবি রিজিয়ন (দুই ফিল্ম) ৩০০, অ্যাবডোমেন ২০০, লেগ বি/ভি ২০০, থাই বি/ভি ২০০, ফুট বি/ভি ১৫০, আইভিইউ ৮০০, বেরিয়াস মিল এস/ডি ৬০০ এবং বেরিয়াস সোয়ালো ইসসোফেগাস পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি বন্ধ থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এসব পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বারুহাস ইউনিয়নের কুলসুম বেগম বলেন, ‘বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে ছোট মেয়ে হাতে আঘাত পেয়েছে। চিকিৎসক ডিজিটাল এক্স-রে করাতে বলছেন। গত বৃহস্পতিবার গিয়ে শুনি হাসপাতালে এক্স-রে বন্ধ। বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করেছি।’

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছয় মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। তখন এক্স-রে মেশিনটি ভালো ছিল। দেড় মাস ধরে হার্ডডিস্কের সমস্যার কারণে মেশিনটি অচল অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এক্স-রে মেশিনের হার্ডডিস্কে সমস্যা হয়েছিল। তবে সেটি ঠিক করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে মেশিনটি চালু হবে বলে আশা করছি।’