মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছরেও নির্মাণ হয়নি লালমনিরহাট সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ভবন। অথচ লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগ গত ৪ আগস্ট এক চিঠিতে দাবি করে হাসপাতালটির ভৌত অবকাঠামোগত ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-নার্সসহ কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগ ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও ১০তলা ভিতযুক্ত আটতলা ভবনের নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পায় ঢাকার মিরপুর এলাকার মেসার্স সাজিন এন্টারপ্রাইজ (জেভি)। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৩৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পায় ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট। একই বছরের ২২ অক্টোবর নির্মাণকাজ শুরু করে, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি। বিলম্বের কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস সংকটকে দায়ী করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লালমনিরহাট সদর হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে ১০তলা ভিতযুক্ত ভবনের আটতলা নির্মাণকাজ হবে। এতে স্যানিটারি, পানি সরবরাহ, আন্তঃবিভাগ এবং বহির্বিভাগের বৈদ্যুতিক লাইন, ভূগর্ভস্থ জলাধার, পাম্প হাউজ, ডিপ টিউবওয়েল, সীমানাপ্রাচীর, এয়ারকুলার, পিএবিএক্স, লিফট, জেনারেটর, সাবস্টেশন বিল্ডিং অ্যান্ড ইকুয়িপমেন্টস, অগ্নিনির্বাপক, অ্যাপ্রোচ রোড, কার পার্কিং, কম্পাউন্ড লাইটিং অ্যান্ড অরবোরিকালচার করার বিষয়ে সিডিউলে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে বারবার চেষ্টা করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাজিন এন্টারপ্রাইজের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
লালমনিরহাট সদর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল বাসেত বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার এক মাসও পার হয়নি। সবকিছু এখনো জানি না। তবে নতুন হাসপাতালটির কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, নার্স, চিকিৎসক; সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুজ্জামান বলেন, করোনা সংকট ও নকশা পরিবর্তনজনিত সমস্যার কারণে ২০১৯ সালের ২১ আগস্টের মধ্যে হাসপাতালের ভবন নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তাদের চাপ দেয়া হচ্ছে। আগামী বছরের ৩০ জুন নির্মাণকাজ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাসপাতাল ভবনটি বুঝিয়ে দেয়া হবে।










