ঠাকুরগাঁওয়ে এ বছর ফলন ভালো হলেও সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করতে পারছে না খাদ্য বিভাগ। এবার সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ টাকা। আর ঠাকুরগাঁওয়ে হাটবাজারে প্রতি কেজি গম বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা দরে। তাই কৃষক গম বিক্রি করছেন খোলাবাজারে। ফলে চলতি মৌসুমে জেলায় খাদ্য বিভাগের গম সংগ্রহ কার্যক্রম থমকে গেছে।

জানা গেছে, শুধু উদ্বোধনের দিন জেলায় চার উপজেলায় এক টন করে গম সংগ্রহ করেছে খাদ্য বিভাগ। এরপর থেকে খাদ্য বিভাগের গম সংগ্রহ অভিযান কার্যত বন্ধ রয়েছে। কৃষক বলছেন, খোলাবাজারে গমের দাম ৩২ টাকা ৫০ পয়সা। আর সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ টাকা। তাই খাদ্য বিভাগের কাছে গম বিক্রি করতে গেলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এজন্য কৃষক খাদ্য বিভাগে গম বিক্রি না করে খোলাবাজারেই বিক্রি করছেন।

সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চৌধুরীহাট, খোঁচাবাড়ী, ভুল্লী, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী, রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ও হরিপুরের যাদুরানী হাটে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে ৮০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা গম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি গমের দাম হচ্ছে ৩২ টাকা ৫০ পয়সা।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ও চাষ হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭১ টন। ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ গম সংগ্রহের আওতায় সারা দেশে ২৮ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ টন গম কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলায় গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ২৮২ টন।  এরই মধ্যে জেলার পাঁচটি উপজেলায় লটারির মাধ্যমে ২৪ হাজার ২৮২ জন কৃষককে সরকারি গুদামে গম বিক্রির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে চার উপজেলায় গম সংগ্রহ হয়েছে পাঁচ টনেরও কম।

জেলার বড় খোচাবাড়ী এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে গমের দর যা দেয়া হয়েছে তাতে আমাদের লোকসান হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি গুদামে গম বিক্রির জন্য গত ১৮ এপ্রিল বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় লটারির মাধ্যমে ১ হাজার ৯৭৫ জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু আগ্রহী কৃষক না পাওয়ায় সেখানে চলতি বছরের গম সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা যায়নি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার খাদ্যগুদামে গম বিক্রির জন্য লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষক খসিয়ার রহমান। তিনি বলেন, সরকারি দরের চেয়ে বাজারে দাম বেশি, তাই সরকারি গুদামে গম বিক্রি করার কোনো আগ্রহ নেই।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক নিখিল রায় বলেন, সরকারিভাবে ২৮ টাকা কেজিতে গম কিনতে বলা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে এখন সরকারি দামের চেয়েও বেশি দামে গম কেনাবেচা হচ্ছে। এ কারণে নির্বাচিত কৃষকরা খাদ্যগুদামে গম বিক্রি করছেন না।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয় ২৮ টাকা। আর বর্তমানে জেলার খোলা হাটবাজারে এখন প্রতি কেজি গম ৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষক যেখানে তাদের ফসলের দাম বেশি পাবেন সেখানেই তারা বিক্রি করবেন, এটাই স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতি চলমান থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় সরকারিভাবে গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।