গাজীপুরের ভাওয়াল রেল স্টেশন এলাকায় গত ১২ নভেম্বর লাইনচ্যুত হয় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। সেদিনের ঘটনায় গৃহস্থালিতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন দিয়ে রেলপথ কেটেছিল নাশকতাকারীরা। ১২ নভেম্বরের ঘটনা নিয়ে রেলওয়ে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

রেলওয়ের ওই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে সূত্র বলছে, পূর্বাঞ্চল রেলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন এরই মধ্যে রেলভবনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সেদিনের ঘটনায় নাশকতাকারীরা সাড়ে ১৭ ফুট রেললাইন কেটে রাখে। কাটা রেলের পাশে ঝোঁপের মধ্যে রান্নায় ব্যবহৃত একটি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার, আরো কিছুটা দূরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন সিলিন্ডার পাওয়া যায়। মূলত এগুলো ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার শিখা তৈরি করে রেল ট্র্যাকের মতো ভারী ও শক্ত ধাতব বস্তু দ্রুত সময়ে কেটে ফেলা হয়েছে। নাশকতাকারীরা একটি চাদর দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার লুকিয়ে বহন করে রেললাইনে নিয়ে আসে। রেলপথ কাটার পর তারা কাটা ট্র্যাক সরিয়ে নেয়। কাটা রেললাইনটির সব ক্লিপও খুলে নেয়া হয়। মাত্র ১ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কেটে ফেলা হয় সাড়ে ১৭ ফুট রেলপথ।

দূর্ঘটনার পর ১৩ ডিসেম্বর বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ঢাকা) কার্যালয় থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলওয়ে। এ কমিটি তাদের তদন্ত শেষে সম্প্রতি রেল ভবনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনায় রেলকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার কোনো প্রমাণ পায়নি। তবে এ ঘটনায় রেলওয়ের ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫২ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে রেলওয়ের ওয়েম্যানদের দিয়ে রেলপথ প্যাট্রলিংয়ের সময় বাড়ানো, লোকবল বাড়ানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্যাট্রলিং কাজে অন্তর্ভুক্ত করা, রেলপথ প্যাট্রলিংয়ের সময় স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারীদের সঙ্গে ওয়েম্যানদের কুশল বিনিময়, রাতে চলাচলরত ট্রেনগুলোর জন্য সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনে পাইলট ইঞ্জিন পাঠিয়ে ট্র্যাক (রেলপথ) তদারক করা, গুরুত্বপূর্ণ সেতু-কালভার্ট ও সেকশনগুলো বাতি ও সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রোধে ব্যাপক প্রচারণা চালানো।