রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী আবু
সাঈদসহ সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তিসহ
বিভিন্ন দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও পদযাত্রা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
প্রথম দফায় সকালে সব সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও দ্বিতীয় দফা
কর্মসূচি চলাকালীন বিক্ষোভ মিছিল বিকাল ৫টার দিকে পার্কের মোড় থেকে জাহাজ কোম্পানি
মোড়ের দিকে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পার্কের মোড়ে ফিরে গিয়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে রংপুর মহানগরীর পার্ক মোড়ে বেগম
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী
ও অভিভাবকরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও পদযাত্রার ব্যানার নিয়ে একত্রিত হয়। এ কর্মসূচির
প্রতি সংহতি প্রকাশ করে একাত্মতা ঘোষণা করে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা।
এ সময় সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কীভাবে সহিংস হলো? আমরা তো শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের
দাবি তুলে ধরেছিলাম। সরকারে থাকা দায়িত্বশীলদের মদদে আমাদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগ-পুলিশ
সদস্যরা হামলা করে, মারধর করে, ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। তারাই আমাদের ওপর গুলি চালায়।
আমাদের ভাইকে কেন হত্যা করা হয়েছে, কী কারণে ছাত্রদের হত্যা করা হলো? এখন আমাদের কেন
নিরাপত্তা নেই? আমরা সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা চাই। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা
রাজপথ ছাড়ব না। এ সময় আবু সাঈদসহ সারা দেশে চলমান এই ছাত্র আন্দোলন ঘিরে বর্বরোচিত
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
এদিকে সংহতি প্রকাশ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারা
বলেন, আমাদের ছাত্র আবু সাঈদসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের
মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আমরা আর কোনো হত্যাকাণ্ড দেখতে চাই না। শিক্ষার্থীদের
ন্যায্য দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে সব ব্যবস্থা
নিতে হবে। নইলে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে। আমরা শিক্ষকরা সব সময়
ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একমত ছিলাম, তাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি।
অভিভাবকরা জানান, আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে মাঠে
নেমেছে। অনেকে হত্যার শিকার হয়েছে। অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে-বাড়িতে কাতরাচ্ছে। অনেকে
আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। আমরা অভিভাবক হয়ে বাড়িতে বসে থাকতে পারি না। তাই শিক্ষার্থীদের
যৌক্তিক আন্দোলনে আমরাও তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।
সমাবেশ শেষে পার্ক মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এ সময়
তারা বৃষ্টিতে ভিজে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিকাল সাড়ে তিনটার পর বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিল কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টিতে ভিজে মিছিলে
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবকরাও। তবে বিকাল ৫টার দিকে আবার ছাত্র ও অভিভাবকরা
একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পার্কের মোড় থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড়ের দিকে আসতে
চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পার্কের মোড়ে ফিরে গিয়ে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।










