আমরা ভাসমান মানুষ। কয়েকদিন পর পর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। সেখানেই থাকতে হয়, স্ত্রী সন্তান নিয়ে। করোনার কারণে এবার বাগেরহাটে আটকে গেছি। কাজকর্ম কিছু নেই, তাঁবুতে থাকতে হচ্ছে। সরকারের সহায়তায় চাল, ডাল, তেল, লবণসহ কিছু খাদ্যসামগ্রী পেয়েছিলাম। কম করে খেয়েও ১০ দিনের বেশি নিতে পারিনি। এখন কী খাব আমরা!
এভাবেই অসহায়ত্বের কথা জানান বাগেরহাটের খানজাহান আলী মাজার মোড় সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়া বেদে সম্প্রদায়ের সরদার আবুল কালাম।
ওই পল্লীর ৪৪টি পরিবারের এখন করুণ অবস্থা। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে নারী, শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষ।
বেদে সাথী বেগম, বক্কার মিয়া, বাবু পরামানিকসহ কয়েকজন বলেন, বাপ-দাদার পেশা ছাড়তে পারি না। দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াই খাবারের সন্ধানে। এক সময় নৌকায় নৌকায় থাকতাম। মানুষের রোগ-ব্যাধি উপশমের জন্য ঝাড়ফুঁক ও গাছ-গাছড়া বিক্রি করতাম। নদীপথ সীমিত হওয়ায় স্থল পথে গ্রামে গ্রামে যাই। ওইসব গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় ছেলে-মেয়েদের খাইয়ে পরিয়ে বড় করি। কিন্তু বাগেরহাটে এসে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে আটকা পড়ে গেছি। তাঁবুবন্দি হয়ে আছি এখানে। ১৩-১৪ দিন আগে কিছু খাবার পেয়েছিলাম। দুতিন দিন আগে ফুরিয়ে গেছে। সপ্তাহখানেক আগে অচেনা এক ব্যক্তি এক বস্তা মাছও দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় বন্দি থাকতে হবে তাতো বুঝতে পারিনি। ঘরে খাবার নেই। বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। সবকিছু বন্ধ। কী করবো ভেবে পাচ্ছি না আমরা।
মুন্নি বেগম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যা বলছে আমরা সব মেনে চলার চেষ্টা করছি। কিন্তু তিন-চার আগে তো ঘরে চাল ফুরিয়ে গেছে। এখন কী করব জানিনা। সবার পেটে ক্ষুধা। ছোট বাচ্চাগুলোর দিকে তাকানো যায় না। যে করে হোক আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। এ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এ নারী।
বেদে পল্লীর সরদার আবুল কালাম জানান, ১৪ দিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু খাবার দেয়া হয়েছিল। ওই খাবারতো প্রায় এক সপ্তাহ আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন দুই শতাধিক মানুষ এখানে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগেরহাট করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সম্পর্কিত কার্যক্রমের সমন্বয়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বেদে পল্লীতে একবার খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখব যদি তাদের খাবার প্রয়োজন হয়, তাহলে আবার পৌঁছে দেয়া হবে।










