নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে যুবদল কর্মী শাওন নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপারসহ ৪২ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যের বিরুদ্ধে করা বিএনপির মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় মামলাটি খারিজ করা হয়। আজ রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ইমরান মোল্লার আদালত এ আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়ন জানান, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাদী হয়ে এ মামলার আবেদন করেছিলেন। আদালত ২০৩ ধারায় মামলাটি খারিজ করেছেন।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, বিচারিক হাকিম ইমরান মোল্লা বাদীর শুনানি নিয়ে বিষয়টি আদেশের অপেক্ষায় রেখেছিলেন। পরে মামলাটি খারিজ করে আদেশ দেন।
এদিন সকালে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বিবাদীগণ দায়িত্ব অবহেলা করে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিরস্ত্র ও শান্তিকামী নেতা-কর্মীদের ওপর বেপরোয়াভাবে গুলি, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, লাঠিচার্জ করে। এতে শাওন নিহত এবং অন্যান্য নেতা-কর্মীরা আহত হয়। আবেদনে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধ করেছে বলে বাদী উল্লেখ করেন।
আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, গণমাধ্যম এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশের এসআই কনককে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া জেলার এসপি, তিনজন এএসপি, সদর মডেল থানার ওসিসহ মোট ৪২ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। মামলা আমলে নেয়ার মতো কোনো কারণ ছিল না উল্লেখ করে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়কে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। টানা পৌনে দুই ঘণ্টা চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ভাঙচুর করা হয় শহরের দুই নং রেল গেটের পুলিশ বক্স। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এ সময় শাওন প্রধান নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিহত শাওনের বড় ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।










