দখলের
কারণে ঝিনাইদহের জিকে সেচ প্রকল্পের খাল সংকুচিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ হয় না। উল্টো
দখলদাররা নতুন নতুন স্থাপনা গড়ে তোলেন। গত ২৫ বছর
ধরে দখলের কারণে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শাখারিদহ বাজার অংশে খালটি বন্ধ হতে চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ এক সপ্তাহের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নোটিস দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। উচ্ছেদ কাজের জন্য ঠিকাদার নির্বাচন করেও অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এতে দখলদারদের মাঝে উৎসাহ বাড়বে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কৃষিকাজ সচল রাখতে ও জলাবদ্ধতা দূর করতে খালের পাড় দখলমুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ খান জানান, শাখারিদহ বাজারের মাঝ দিয়ে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের একটি খাল বয়ে গেছে। খালের দক্ষিণে বাজারটির অবস্থান থাকলেও রাস্তার কারণে বাজারটি উত্তরে সরে এসেছে। এছাড়া একশ্রেণীর দখলদার বাজারের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সেচ খালের পাড় দখল করে দোকান নির্মাণ শুরু করেন। এভাবে একের পর এক দখল হওয়া খালের জায়গায় দোকান গড়ে ওঠায় বাজারটি উত্তরে সরে এসেছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুনীল কুমার ভদ্র বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা উচ্ছেদের সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ঠিকাদারও নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে উচ্ছেদ করতে পারছি না।’
বিশেষ কারণে চিঠি দিয়ে উচ্ছেদ না করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। সুনীল কুমার বলেন, ‘উচ্ছেদ করতে গেলে প্রতিবন্ধকতা এসে যায়। যে কারণে চেষ্টা করেও সফল হতে পারছি না। তবে দখলদারদের অবশ্যই উচ্ছেদ করা হবে।’
তবে বাজারের শাখারিদহ বাজারের একাধিক দোকানি নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে জানান, খালের দুই পাড় দখল করে একের পর এক ভবন হওয়ায় বাজারটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। মূল জমি ফেলে রেখে দখল করা জমিতে বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন আর মূল জায়গায় ব্যবসায়ীরা ফিরতে পারছেন না। উল্টো খালের জায়গা দখল করায় ঝিনাইদহ-হরিণাকুণ্ডু রাস্তাটিও সংকুচিত হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য প্রতি বছরই নোটিস দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। সব নোটিসে এক সপ্তাহের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়, অন্যথায় দোকান ভেঙে দেয়ার আল্টিমেটার দেয়া হয়। এভাবে একের পর এক নোটিস পান ব্যবসায়ীরা। নোটিস দেয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও কয়েকদিন ঘোরাঘুরি করেন। পরে আর উচ্ছেন হয় না। এতে দখলদাররা উৎসাহিত হন, বছরের পর বছর দখল অব্যাহত থাকে। চলতি বছরের ২২ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এক সপ্তাহের নোটিস দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। না হলে উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আজও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
খালের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি জানান, খালের জমি বেশির ভাগ স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছেন। তিনি একজনের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন।
খালের জমি দখলের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, সবাই দখল করেই ব্যবসা করছেন। অন্যরা উঠে গেলে তিনিও যাবেন। নোটিসের বিষয়ে লিটন মিয়া বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই নোটিস দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেই আমাদের চলতে হয়। এভাবে কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর।’
আরেক ব্যবাসয়ী শরিফুল ইসলাম জানান, অন্যরা দখল করেছে দেখে তিনিও একটি ছোট দোকান করেছেন। উচ্ছেদ করলে তিনিও দোকান ছেড়ে চলে যাবেন।
শাখারিদহ বাজার কমিটির সভাপতি খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই ব্যবসায়ীরা নোটিস পান। কিছুদিন এ নিয়ে বাজারে আলোচনা চলে, আবার সব ঠিক হয়ে যায়। খালের জমি দখলমুক্ত করার বিষয়ে তাদের সঙ্গে কখনো কেউ আলোচনা করেননি।’










