ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সোহরাব মিয়া (২৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। গতকাল উপজেলার চাতলপাড় বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহরাব মিয়া চাতলপাড় ইউনিয়নের মোল্লাগোষ্ঠীর সমর্থক। তিনি ওই ইউনিয়নের চান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গতকাল দুপুরে উল্টাগোষ্ঠী ও মোল্লাগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। দুপুর ২টার দিকে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে মোল্লাগোষ্ঠীর একজন নিহত হন। আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন। আহতদের অনেকেই নাসিরনগর না এসে কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে তিনজন মোল্লাগোষ্ঠীর। তারা হলেন নেয়ামুল মিয়া, বাবুল মিয়া ও সুরাফ মিয়া। তাদের কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গতকাল সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। চাতলপাড় বাজারের পাঁচ শতাধিক দোকান বন্ধ রয়েছে।
উল্টাগোষ্ঠীর মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের লোকদের সব সময় তারা মারধর করত। বাজারে আমাদের ২০টি দোকান লুটপাট করা হয়েছে।’
মোল্লাগোষ্ঠীর সমর্থক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমাদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অতর্কিত হামলা করে আলাউদ্দিনের লোকজন। এর মধ্যে সোহরাবকে টেঁটা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তিনি মারা গেছেন। আরো দুজনের জীবন সংকটাপন্ন।’
নাসিরনগর থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহতের খবর তারা পেয়েছেন। তবে লুটপাটের বিষয়টি জানা নেই তার।










