নির্যাতনের অভিযোগ এনে ফেনী মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) দুলাল মিয়াসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নাছিমা আক্তার নামের এক নারী। গতকাল সোমবার ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করলে আদালত আগামী ৭ দিনের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপারকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ধলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতপুর বেদরাবাদ গ্রামের আবু তাহের সেলিম ও মো. হাসেমের সঙ্গে বাদী নাছিমার পিতা আদুর রহিমের ১৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ফেনীর দেওয়ানী আদালতে এ সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে বলে নাছিমার পিতাসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ১০ ডিসেম্বরের ঘটনা দেখিয়ে ২২ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন আবু তাহের সেলিম।
২৪ ডিসেম্বর নাছিমা তার স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে ফেনী মডেল থানার এসআই দুলাল মিয়া, আবু তাহের সেলিম ও মো. হাসেমসহ ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি দল আবদুর রহিমের ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়েন। এসময় ঘরের বাসিন্দারা চোর চোর করে চিৎকার শুরু করলে দুলাল মিয়াসহ অন্যান্যরা এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে হামলাকারীরা আহতদের ৪টি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা ১৭ হাজার টাকা ও ৫ বস্তা ধান নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় মামলার বাদী নাছিমা আক্তার, তার শিশু পুত্র আরাফাত হোসেন (৪), ভাই মো. আনিসুল হক, জিয়াউল হক, মফিজুল হক, জসিম উদ্দিন ও তৌহিদুল ইসলাম সাকিবসহ সাতজনকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালত বাদিনীর আবেদন আমলে নিয়ে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফেনীর পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন। মামলায় এসআই দুলাল মিয়া, ধলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতপুর বেদরাবাদ গ্রামের মো. আবুল হাসেম ও তার ছেলে আবু তাহের সেলিমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদী সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের স্বরাজপুর গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী।
এব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, মামলা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোন নথি থানায় আসেনি।










