কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের কাছে দ্রুত নিজের দেশ মিয়ানমারে ফেরার ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সেখানকার বাসিন্দারা। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে রোহিঙ্গারা বলে, ক্যাম্পে অনেকটা বন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে। এমন জীবন আমরা চাই না, দ্রুত স্বদেশে ফিরে যেতে চাই। এজন্য মিয়ানমারকে জোর চাপ প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানায় তারা। 

মার্কিন বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি গতকাল সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যায়। সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু ও ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) এশিয়া ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অঞ্জলি কৌর, ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসসহ আরো বেশ কয়েকজন। ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সকাল ৯টায় উড়োজাহাজে কক্সবাজারে পৌঁছে। সেখান থেকে সড়কপথে উখিয়া বালুখালী ৯ নম্বর ক্যাম্পে ইউএনএইচসিআর পরিচালিত রোহিঙ্গাদের রেজিস্ট্রেশন সেন্টার পরিদর্শন করে। এরপর ওখান থেকে হেঁটে একে একে পুষ্টি কেন্দ্র, ডব্লিউএফপি পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শনে যান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। পরে ১১ নম্বর ক্যাম্পের কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে একদল রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। 

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা, ইমামসহ ১০ পুরুষ ও ১০ নারী উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে ক্যাম্পের শিক্ষা ব্যবস্থা, খাদ্য, নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চান। কথা হয় প্রত্যাবাসনসহ নানা বিষয়েও। রোহিঙ্গারা প্রতিনিধি দলটির কাছে মিয়ানমারে তাদের ওপর সরকারের নির্যাতন ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থী আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের বর্ণনা দেয়। উজরা জেয়ার হাতে রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়েরের নেতৃত্বে একদল রোহিঙ্গা একটি আবেদনও দেয়। সেখানেও প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হয়। 

মার্কিন প্রতিনিধি দল পরে ক্যাম্প-১৮-তে অবস্থিত রোহিঙ্গা কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তার সার্বিক বিষয় তদারকিসহ ৮ এপিবিএনের পক্ষে পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ ও রবিউল ইসলাম।