স্বাভাবিক জোয়ারে খালের পানির উচ্চতার সঙ্গে অসংগতি থাকায় বরগুনায় আটকে আছে একটি সেতুর নির্মাণকাজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নকশায় ত্রুটি থাকায় সেতুটি নির্মাণে প্রথমে আপত্তি জানান নৌপথ ব্যবহারকারীরা। তালতলীর ফকিরহাট খালের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাড়ের কাজ শেষ হলেও মাঝখানের অংশটুকু বাকি রয়েছে। এরই মধ্যে সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদকালও শেষ হয়ে গেছে।

সেতুটি নির্মাণ হলে সোনাকাটা সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে টেংরাগিরি ইকোপার্কের সংযোগ স্থাপন হবে। প্রায় দুই বছর ধরে সেতুর বাকি কাজ বন্ধ থাকায় ইকোপার্কে ঘুরতে আসা পর্যটকরা ভোগান্তিতে পড়ছে। তাদের অভিযোগ, এ কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পর্যটকরা।

এদিকে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আগে পর্যটকদের চলাচলের জন্য পুরনো লোহার সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। বিকল্প সড়ক না করে নতুন সেতু নির্মাণকাজ শুরু করায় পর্যটকসহ স্থানীয়রা দুর্ভোগে পড়ে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সোনাকাটা সমুদ্রসৈকতের সঙ্গে টেংরাগিরি ইকোপার্কের সংযোগ স্থাপনের জন্য ফকিরহাট খালের ওপর সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৭ কোটি টাকা। দরপত্র আহ্বান করা হলে কাজটি পায় বরিশালের আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের শেষ দিকে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। গত এক বছরে সেতুর দুই পাড়ের কাজ শেষ করা হয়। বাকি ছিল মাঝখানের অংশটুকু। তবে সেতুর উচ্চতা মাত্র পাঁচ ফুট হওয়ায় সাগর থেকে জেলেদের মাছধরা ট্রলার চলাচল করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তাই নকশা পরিবর্তন করে ও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১৫ ফুট উচ্চতায় সেতু নির্মাণের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

এলজিইডি তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী রাসেল ইমতিয়াজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেতুর মাঝখানের স্প্যানটির নির্মাণ বন্ধ রাখা হয়েছে। নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্টিলের স্ট্রাকচার করে এর উচ্চতা আরো ৮-১০ ফুট বাড়াতে হবে।’