জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

আজ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র অবৈধ মজুদ ও পাচারের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

এ পরিস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিরোধে সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায় সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, অবৈধ মজুদদারদের জন্য আমরা পাম্পগুলোয় বাড়তি সরবরাহ করেও চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। ১-৫ মার্চে পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ সরবরাহ করেছি। আগের বছর এ সময় দৈনিক ১২ হাজার ৭০০ টন তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। এ বছরের একই সময়ে দৈনিক ২৪ হাজার টনের বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলেও সামাল দেয়া যায়নি। কারণ একদিকে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে তেল নিতে পাম্পে ভিড় করছেন, অন্যদিকে অবৈধ মজুদদাররা মজুদ করছেন। যার ফলে গত ৬ মার্চ থেকে ফের আগের বছরের মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। পরে ঈদের আগে আগে আবার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি তেল সরবরাহ দেয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।

বিপিসির চেয়ারম্যান আরো বলেন, এখন প্রতিটি জেলায় ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করে নজরদারি হচ্ছে। পাম্পগুলোয় তদারকি বাড়াতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাম্পে কতটুকু জ্বালানি তেল বরাদ্দ পাওয়ার কথা ও কতটুকু পাচ্ছে সেগুলো তদারকি করবেন ট্যাগ অফিসাররা। পাশাপাশি সারা দেশেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা আদায়ের সঙ্গে করাদণ্ডও দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা অবৈধ মজুদের তথ্য দিচ্ছে, তাদের এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।