জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) সাবেক ভ্যাট কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম শেখ বাদী হয়ে গতকাল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাটি দায়ের করেন। ওয়াহিদা রহমানের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেলকে ১৫৩ কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে ওই মামলায়।
ওয়াহিদা রহমানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১৮/৪০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়। দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
এজাহারে অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনবহির্ভূতভাবে ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর একক নির্বাহী সিদ্ধান্তে ১৬টি নথিতে ১৫২ কোটি ৮৯ হাজার ৩৯০ টাকা অপরিশোধিত সুদ মওকুফ করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করেন। এনবিআর সদস্য হোসেন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত দলের প্রতিবেদনেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
চার মোবাইল ফোন অপারেটর ও এনবিআরের আর কাউকে এ মামলায় আসামি না করার বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, ‘তদন্ত পর্যায়ে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হবে।’
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী ২০২৩ সালের অক্টোবরে অবসরে যান। এলটিইউর আগে তিনি শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরে (ডেডো) কমিশনার পদে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি সারা জীবন সততার সঙ্গে চাকরি করেছি। দুদক যে বিষয়ে অভিযোগ এনেছে, এর সবই হাইকোর্টে বিচারাধীন।’ অনুসন্ধান পর্যায়ে দুদক তার কোনো বক্তব্য নেয়নি এবং কোনো নোটিসও দেয়নি বলে দাবি করেন ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী।










